অনিশ্চয়তার অবসান, ২০২৫-২৬ মরশুমে শুরু হচ্ছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ

অনিশ্চয়তার অবসান, ২০২৫-২৬ মরশুমে শুরু হচ্ছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


খেলা – কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তা, জল্পনা ও আর্থিক টানাপড়েনের পর অবশেষে স্পষ্ট বার্তা মিলল ভারতীয় ফুটবলে। ২০২৫-২৬ মরশুমে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) আয়োজনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করল অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। আগামী সপ্তাহেই লিগ শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আগের বাণিজ্যিক স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে মাস্টার রাইটস চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই আইএসএলের ভবিষ্যৎ ঘিরে তৈরি হয়েছিল অচলাবস্থা। সম্প্রচার, উৎপাদন খরচ এবং ক্লাবগুলোর আর্থিক দায় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এআইএফএফ একটি আইএসএল-এআইএফএফ কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই এআইএফএফের এমার্জেন্সি কমিটি লিগ আয়োজনের ছাড়পত্র দেয়।
এআইএফএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে মাস্টার রাইটস অ্যাগ্রিমেন্ট শেষ হওয়ার পর থেকেই সমস্যা শুরু হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর ২ জানুয়ারি কো-অর্ডিনেশন কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ে। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়, আর দেরি না করে দ্রুত লিগ শুরুর ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি জানানো হয়, কোনও ক্লাব যদি অংশগ্রহণে অস্বীকার করে, তাহলে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে নিচের ডিভিশনে নামিয়ে দেওয়া হবে।
খরচ ও পরিচালনার বিষয়েও একটি প্রাথমিক কাঠামো ঠিক করা হয়েছে। সুপারিশ অনুযায়ী, রেফারির খরচ এবং সম্প্রচার প্রোডাকশনের দায়িত্ব নেবে এআইএফএফ। ক্লাবগুলো আগের মতোই নিজেদের হোম ম্যাচ আয়োজন করবে। প্রতিটি দলকে ১ কোটি টাকা করে অংশগ্রহণ ফি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যদিও এই ফি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মুলতুবি রাখার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে চলতি মরশুমে কিছু অপারেশনাল খরচে এআইএফএফ সহায়তা করতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
১ জানুয়ারি ১৪টি ক্লাবের মধ্যে ১৩টি ক্লাব জানায়, অংশগ্রহণ ফি না দিতে হলে এবং লিগ আয়োজনের আর্থিক দায়িত্ব এআইএফএফ নিলে তারা খেলতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে ক্লাবগুলো দাবি করেছে, আইএসএলের দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ স্পষ্ট করতে হবে—নতুন বাণিজ্যিক পার্টনার, সম্প্রচারকারী নিয়োগ এবং আর্থিক স্বনির্ভরতার সময়সীমা কী হবে, তা জানানো প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সরকারের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
তবে এত কিছুর মধ্যেও একটি বড় প্রশ্ন এখনও খোলা। আইএসএলের ফরম্যাট এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এআইএফএফ দুটি বিকল্প নিয়ে ভাবছে—হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে সিঙ্গল লিগ অথবা সেন্ট্রালাইজড ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন। যদি সব ১৪টি দল অংশ নেয়, তাহলে প্রত্যেক দল আনুমানিক ১৩টি করে ম্যাচ পেতে পারে। ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ফরম্যাট ঠিক করার চেষ্টা চলছে। তবে ঐকমত্য না হলে দেরি এড়াতে এআইএফএফ নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে। ফরম্যাট চূড়ান্ত হওয়ার পর এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের কাছে ২৪ ম্যাচের নিয়ম থেকে ছাড় চাওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, আইএসএল নিয়ে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা আপাতত কেটেছে। লিগ শুরু হচ্ছে, এটুকু নিশ্চিত। তবে ফি, ফরম্যাট এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক কাঠামো—এই তিনটি প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর এখনও বাকি। ফলে আইএসএলের টিকে থাকার লড়াই যে এখানেই শেষ নয়, সেটাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top