অভিষেকের সভার পরেই বাস্তব পদক্ষেপ, চা বাগান এলাকার পড়ুয়াদের জন্য চালু হচ্ছে স্কুল বাস

অভিষেকের সভার পরেই বাস্তব পদক্ষেপ, চা বাগান এলাকার পড়ুয়াদের জন্য চালু হচ্ছে স্কুল বাস

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


আলিপুরদুয়ার – শনিবার মাঝেরডাবরিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় চা শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের দুর্দশার কথা সামনে আনেন কুমারগ্রামের রহিমাবাদ চা বাগানের শ্রমিক জয়ন্ত ওরাওঁ। তিনি অভিযোগ করেন, স্কুলে যাওয়ার জন্য আজও শ্রমিক পরিবারের শিশুদের ট্রাক্টরে করে যাতায়াত করতে হয়। সভামঞ্চ থেকেই বিষয়টি শোনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার ঠিক পরদিনই সেই আশ্বাস বাস্তবে রূপ নিল।
সভা শেষ হওয়ার একদিনের মধ্যেই আলিপুরদুয়ার জেলায় পৌঁছে গেল ঝকঝকে নতুন স্কুল বাস। সোমবার থেকেই চা শ্রমিক পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা এই বাসে করে স্কুলে যাতায়াত করবে। আপাতত আলিপুরদুয়ার জেলায় মোট পাঁচটি স্কুল বাস চালু হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
রাজ্য শ্রম দফতরের উদ্যোগে এবং উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার সহযোগিতায় এই বাস পরিষেবা চালানো হবে। প্রাথমিকভাবে নাগরাকাটা ও মালবাজার এলাকা থেকে পরিষেবা দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
আলিপুরদুয়ার জেলায় যে রুটগুলিতে বাস চলবে, সেগুলি হল— লঙ্কাপাড়া থেকে বীরপাড়া, টোটোপাড়া থেকে মাদারিহাট, ডেকপাপাড়া থেকে বীরপাড়া, সেন্ট্রাল ডুয়ার্স থেকে কালচিনি এবং মুজনাই চা বাগান থেকে এথেলবাড়ি। পাশাপাশি জলপাইগুড়ি জেলায় পাথরঝোড়া চা বাগান থেকে ওদলাবাড়ি মোড়, ইঙ্গু চা বাগান থেকে মেটেলি, বামনডাঙ্গা চা বাগান ও হিল্লা টি এস্টেট থেকে চেংমারি টি এস্টেট হাই স্কুল, যোগেশচন্দ্র চা বাগান থেকে রাজডাঙ্গা পি এম হাই স্কুল এবং মোগলকাটা চা বাগান থেকে বানারহাট হাই স্কুল পর্যন্ত এই পরিষেবা চালু হবে।
এই বাস কেনার জন্য প্রায় ৩ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। যদিও কেন্দ্র অধিগৃহীত চা বাগানগুলিতে বাস পরিষেবা দেওয়ার দায়িত্ব কেন্দ্রের, তবুও রাজ্য সরকার নিজ উদ্যোগে সমস্ত চা বাগানের ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য এই পরিষেবা চালু করছে।
২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে উত্তরবঙ্গ বিশেষ করে চা বলয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে শনিবার আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে চা শ্রমিকদের মজুরি ছিল মাত্র ৬০ টাকা, যা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করা হয়েছে। তবে এই টাকায় সংসার চলে না বলেও তিনি স্বীকার করেন। নতুন সরকার গঠনের ৩-৪ মাসের মধ্যে আলিপুরদুয়ারকে প্রথম অগ্রাধিকার দিয়ে রাজ্য সরকার, লেবার ইউনিয়ন ও চা বাগান কর্তৃপক্ষের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার আশ্বাস দেন তিনি।
এর একদিন পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। তাঁর দাবি, চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা করা হবে এবং কমপক্ষে ৩০০ টাকা নগদ মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পিএ, সামাজিক সুরক্ষা সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। সব মিলিয়ে চা বলয়ের রাজনীতিতে তৃণমূল ও বিজেপির লড়াই আরও তীব্র হচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top