নতুন শিক্ষাবর্ষে কড়া শৃঙ্খলার বার্তা, ২০২৬-এর অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের

নতুন শিক্ষাবর্ষে কড়া শৃঙ্খলার বার্তা, ২০২৬-এর অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – নতুন বছরে রাজ্যের স্কুলগুলিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কড়া পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রকাশিত হল নতুন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার। এই ক্যালেন্ডারে স্কুলের সময়সূচি থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের আচরণবিধি, পরীক্ষা এবং ছুটির বিস্তারিত নিয়ম স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলে এই নিয়ম বাধ্যতামূলকভাবে মানতে হবে।
নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী স্কুলের দৈনন্দিন সময়সূচিতে নির্দিষ্ট শৃঙ্খলা আনা হয়েছে। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে বিদ্যালয়ে পৌঁছতে হবে। সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত প্রার্থনা সভা চলবে এবং সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ক্লাস শুরু হবে। স্কুল ছুটি হবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে। সময় মেনে স্কুল পরিচালনার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে পর্ষদ।
শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রেও চালু করা হয়েছে কড়া নিয়ম। সকল শিক্ষককে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের মধ্যে প্রার্থনা সভায় উপস্থিত থাকতে হবে। তার পরে এলে ‘লেট’ হিসেবে ধরা হবে এবং সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের পরে এলে সেদিন অনুপস্থিত বলে গণ্য করা হবে। কোনও সরকারি কাজ না থাকলে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের আগে স্কুল ছাড়া যাবে না। ক্লাসরুম বা ল্যাবে পড়ানোর সময় এবং পরীক্ষার সময় ইনভিজিলেশনের দায়িত্বে থাকাকালীন মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত লাভের জন্য প্রাইভেট টিউশন পড়ানোও নিষিদ্ধ বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
পর্ষদের নির্দেশ অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের উপরও বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ছাত্রছাত্রীদের কাছে ঠিকভাবে পৌঁছচ্ছে কি না, তা নজরদারির দায়িত্ব থাকবে স্কুল কর্তৃপক্ষের। স্কুল চত্বর তামাকমুক্ত রাখা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলাও প্রধান শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে রাখা হয়েছে।
ছাত্রছাত্রীদের শৃঙ্খলার বিষয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে পর্ষদ। স্কুলে মোবাইল বা স্মার্টফোন নিয়ে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিদ্যালয় চত্বর পরিষ্কার রাখা, মারপিট বা কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে পড়াশোনা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে পর্ষদ।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পরীক্ষার সূচিও আগাম জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথম সামেটিভ পরীক্ষা হবে এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে, দ্বিতীয় সামেটিভ আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে এবং তৃতীয় সামেটিভ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে।
স্কুল খোলা ও ছুটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মোট ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৫২টি রবিবার এবং ৬৫টি সরকারি ছুটি বাদ দিয়ে স্কুল খোলা থাকবে ২৪৮ দিন। এর মধ্যে পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কাজের জন্য ৩০ দিন ধরা হয়েছে। ফলে শিক্ষকরা ক্লাস নেওয়ার জন্য পাবেন মোট ২১৮ দিন। এই নতুন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে রাজ্যের স্কুলগুলিতে পড়াশোনার পরিবেশ আরও গুছিয়ে ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করাই মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মূল লক্ষ্য।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top