রাজ্য – ভোটের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা না হলেও, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি যে দ্রুত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে, তার ইঙ্গিত মিলছে স্পষ্টভাবেই। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শেষ হলেই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা। এই আবহেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে দিল্লিতে তলব করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সোমবার বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি এসআইআর প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেই তালিকা প্রকাশের পরই বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এখন থেকেই তৎপর কমিশন। রাজ্যে নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নতুন বিষয় নয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তবে কোন এলাকায় কত সংখ্যায় বাহিনী মোতায়েন করা হবে এবং কীভাবে তাদের ব্যবহার করা হবে, তা নিয়েই সোমবারের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক বৈঠকের রিপোর্ট ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করেছে সিইও দফতর। সেই রিপোর্টগুলিই নির্বাচন কমিশনের সামনে পেশ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। বুথভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা—সব দিক নিয়েই আলোচনা হতে পারে বৈঠকে।
এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে সরব হয়েছেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শনিবার তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেন, শুধুমাত্র রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বা টহল দেওয়ার মাধ্যমে সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, ভোটের সময় আসল লুঠ হয় বুথের ভিতরে। এজেন্টদের মারধর করে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়, ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে ভোট দিতে যান না। বুথের ভিতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেই মানুষ নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারবেন বলে দাবি করেন তিনি।
পঞ্চায়েত ভোটের প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, সেই সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও তাদের কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়নি। তাঁর দাবি, বাহিনী শুধু বাসে চেপে ঘুরে বেড়িয়েছে। বিজেপি নেতার বক্তব্য, বুথের বাইরে যেমন আই কার্ড পরীক্ষা করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, তেমনই বুথের ভিতরেও নজরদারি চালানো জরুরি।
সব মিলিয়ে এখন প্রশ্ন একটাই—সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়। সোমবার দিল্লির বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।




















