ভোটার তালিকার অসঙ্গতি নিয়ে কড়া কমিশন, ৪–৫ দিনের মধ্যে নোটিস পৌঁছানোর নির্দেশ

ভোটার তালিকার অসঙ্গতি নিয়ে কড়া কমিশন, ৪–৫ দিনের মধ্যে নোটিস পৌঁছানোর নির্দেশ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – ভোটার তালিকায় তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতি সংক্রান্ত সমস্ত নোটিস অবিলম্বে ডাউনলোড করে আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। এই নির্দেশই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, গোটা প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের চিহ্নিত তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকায় প্রথমে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের নাম ছিল। তবে সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী, এই তথ্যগত অসঙ্গতির সংখ্যা কমে বর্তমানে প্রায় ৯৫ লক্ষে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ পাওয়ার পর রাজ্যের সিইও দফতরও প্রতিটি জেলার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে নির্দেশ পাঠিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার থেকেই প্রতিদিন বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক কতগুলি ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ সংক্রান্ত নোটিস সার্ভ করা হল, তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। অর্থাৎ, দৈনিক নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে গোটা প্রক্রিয়াকে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বলতে বিভিন্ন ধরনের তথ্যগত অসঙ্গতিকে বোঝানো হচ্ছে। যেমন— কোনও ভোটারের নামের গরমিল, বাবার বয়সের সঙ্গে ভোটারের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম বা ৫০ বছরের বেশি হওয়া, কোনও ক্ষেত্রে ঠাকুরদার বয়সের সঙ্গে অসঙ্গতি, আবার কোথাও জেন্ডার মিসম্যাচ বা লিঙ্গ সংক্রান্ত ভুল তথ্য। এই ধরনের অসঙ্গতি থাকা ভোটারদেরই নোটিস পাঠানো হবে।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হলেই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে। এই আবহেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে দিল্লিতে ডেকে পাঠায় জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সোমবার কমিশনের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের ওই বৈঠকের পরেই প্রায় ১ কোটি ভোটারকে শুনানিতে ডাকার নির্দেশিকা জারি হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্ত নোটিস নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পৌঁছতে হবে এবং সেই নির্দেশ ঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও কড়া নজরদারি চালানো হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি ছিল, একই দিনে কীভাবে খসড়া ভোটার তালিকা এবং তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব, তা নিয়েই তাঁর আপত্তি। পাশাপাশি তিনি এই তথ্যগত অসঙ্গতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের দাবিও জানান। তবে তালিকা প্রকাশ না করে উল্টে সেই তালিকায় থাকা প্রায় ১ কোটি ভোটারকে শুনানিতে ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top