সন্দেশখালির ঘটনায় পুলিশের জালে মূল অভিযুক্ত তৃণমূলকর্মী মুসা মোল্লা, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩

সন্দেশখালির ঘটনায় পুলিশের জালে মূল অভিযুক্ত তৃণমূলকর্মী মুসা মোল্লা, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


উত্তর 24 পরগণা – সন্দেশখালিতে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার হল মূল অভিযুক্ত তৃণমূলকর্মী মুসা মোল্লা। ন্যাজাট এলাকা থেকেই তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার জমি দখলের অভিযোগে তদন্তে গিয়ে ন্যাজাট থানার পুলিশের উপর হামলার ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল সে। এই গ্রেফতারের পর সন্দেশখালির ঘটনায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩।
ভেড়ি তৈরির জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের উপর চাপ, জোর করে জমি দখলের অভিযোগ এবং সেই সূত্র ধরেই পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ায় সন্দেশখালিতে। শুক্রবারের ঘটনায় এক আধিকারিক-সহ মোট ৬ জন পুলিশ কর্মী আহত হন। ফের একবার এই ঘটনার কেন্দ্রে উঠে আসে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম। মূল অভিযুক্ত মুসা মোল্লা বয়ারমারি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের চুঁচুড়া এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় তার দাপট ও প্রভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ জমছিল বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি দখলের মামলায় অভিযুক্ত মুসা মোল্লাকে গ্রেফতার করতেই শুক্রবার ন্যাজাট থানার পুলিশ যায় বাসন্তী হাইওয়ের চুঁচুড়া মোড় এলাকায়। কিন্তু সেখানে পরিস্থিতি আচমকাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে পুলিশের উপর হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ওই রাতেই পুলিশ ৯ জনকে গ্রেফতার করে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার দিন মুসাকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে সক্রিয় ভূমিকা নেয় তার দাদা ও দুই ভাইপো। এই তিনজনই পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরে জড়িত ছিল এবং মুসাকে এলাকা ছাড়তে সাহায্য করে বলে অভিযোগ। প্রথম দফায় ধৃতদের জেরাতেই তাদের নাম উঠে আসে। পরে মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে রবিবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতরা হল মুর্তাজা মোল্লা এবং তাঁর দুই ছেলে মোন্তাজুল মোল্লা ও মনোয়ার হোসেন মোল্লা। তাঁদের গ্রেফতারের পর ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হয় ১২।
তবে সোমবার পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত মুসার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এলাকায় একাধিকবার তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান মেলেনি। শেষ পর্যন্ত ন্যাজাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। একসময় আইজুল গাজি নামে এক ব্যক্তির চার বিঘা জমিতে ধানচাষ করত মুসা। অভিযোগ, সেই জমিকেই জোর করে ভেড়িতে রূপান্তর করা হয়। জমি নিজের নামে লিখিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ভেড়ির মাছ বিক্রির অর্থও দেওয়া হত না আইজুলকে। বিষয়টি নিয়ে বসিরহাট আদালতে মামলা দায়ের হয় এবং ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। কিন্তু আদালতের নোটিস উপেক্ষা করে বারবার হাজিরা এড়িয়ে যেত মুসা।
শেষমেশ পুলিশের জালে ধরা পড়ায় সন্দেশখালির ঘটনায় তদন্ত নতুন মোড় নিল বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ হতে পারে বলে ইঙ্গিত পুলিশের।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top