নদিয়া – কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে দেখা গেল এক অভিনব রাজনৈতিক দৃশ্য। বড় বড় হরফে লেখা ‘Bengal Tiger is Back’, সামনে ছিলেন দিলীপ ঘোষ, পিছনে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছায়াচিত্র। রাস্তার দু’ধারে সার বেঁধে পোস্টার—দিন কয়েক আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্য সফরে এসে দিলীপ ঘোষকে ফের সক্রিয় ভূমিকায় নামতে বলেছিলেন। তার পর মঙ্গলবার রানাঘাটে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-এর সঙ্গে পরিবর্তন সংকল্প যাত্রায় উপস্থিত হন তিনি। তবে পোস্টার নিয়ে নিজে মুখ খোলেননি দিলীপবাবু।
দীর্ঘ ‘বিশ্রাম’-এর পর রানাঘাটের মঞ্চে দেখা গেল চেনা শরীরী ভাষা, চেনা আক্রমণাত্মক ভঙ্গি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ, এবং সেই তোপে হাততালির ঢেউ বয়ে যায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে। একসময় বঙ্গ বিজেপির মুখ্য নেতৃত্বে থাকা দিলীপ ঘোষের সভাপতিত্বে বাংলায় বিধানসভায় আসনের রেকর্ড বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু একুশের ভোটের পর সভাপতি পদ ছাড়তে হয় তাঁকে, এরপর লোকসভায় হার এবং দলীয় নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন।
গত বছর দিঘায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আমন্ত্রণে জগন্নাথ মন্দিরে সস্ত্রীক উপস্থিতি জল্পনা বাড়ায়। দলের কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি কমলেও নেতৃত্ব বারবার দাবি করেছে, ‘দিলীপবাবু বিজেপিতেই আছেন।’ অমিত শাহের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর ফের মাঠে নামার ইঙ্গিতও দিয়েছেন দিলীপ। রানাঘাটের সভা যেন তারই পর্ব-দুই।
পোস্টার ঘিরে রাজনীতিতে নতুন মাত্রা। তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ মন্তব্য করেছেন, “দিলীপবাবুর রাজনীতিতে মানুষের বিশেষ আগ্রহ নেই। তবে শুভেন্দুবাবুর সমীকরণে প্রভাব পড়তে পারে।” বিজেপির ভেতরে গোষ্ঠীকোন্দলকে উড়িয়ে দেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, তিনি বলেন, “বিজেপিতে কোনও গোষ্ঠীকোন্দল নেই। পোস্টার কে ফেলেছে—ভগবান জানেন। বিজেপি এক, সবাই মিলেই লড়ব। ছাব্বিশে তৃণমূল নামক আপদটাকে বিদায় করব।”
তবে শীতের সন্ধ্যাতেও রাজনৈতিক করিডরে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এই টাইগার কি শুধু প্রতীক, না কি দিলীপ ঘোষের সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার সূচনা?




















