কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনের পর মালদহে নতুন সমীকরণ, বিধানসভায় মৌসম নূরকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনের পর মালদহে নতুন সমীকরণ, বিধানসভায় মৌসম নূরকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



মালদা – কয়েকদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আবার কংগ্রেসে ফিরেছেন মৌসম বেনজির নূর। তাঁর প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই মালদহের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি আদৌ প্রার্থী হবেন কি না, আর হলে কোন কেন্দ্র থেকে দাঁড়াবেন—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মৌসম নূর প্রার্থী হতে পারেন। সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে মালতীপুর এবং রতুয়া বিধানসভার নাম। তবে সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে তাঁর প্রথম পছন্দ মালতীপুর। উল্লেখযোগ্যভাবে, মালতীপুরের বর্তমান বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী তৃণমূলের মালদহ জেলা সভাপতি। তৃণমূলে থাকাকালীন মৌসম নূর ও রহিম বক্সীর সম্পর্ক মোটেই মসৃণ ছিল না। দু’জনই ছিলেন ভিন্ন শিবিরে, যার ফলে মালতীপুরে মৌসমের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।

এই জল্পনায় আরও ইন্ধন জুগিয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য। কয়েকদিন আগে চাঁচলের এক সভা থেকে তিনি সরাসরি আব্দুর রহিম বক্সীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, তৃণমূল যদি মালতীপুরে রহিম বক্সীকে প্রার্থী করে, তাহলে তিনি তাঁকে হারাবেন। শুভেন্দুর কথায়, “রহিমকে আমি জিততে দেব না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের পর থেকেই মালতীপুর কেন্দ্র ঘিরে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে মৌসম নূরের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পিছনে শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকা ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। আবার মৌসম নূর কংগ্রেসে ফেরার পর তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র আশিস কুন্ডু দাবি করেন, শুভেন্দুর কথাতেই তিনি কংগ্রেসে ফিরে গিয়েছেন। এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও মালদহের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এদিকে কংগ্রেসের লক্ষ্য যে মালদহে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক, তা স্পষ্ট। গনি খান চৌধুরীর পরিবারের প্রতি মালদহের মানুষের, বিশেষ করে মুসলিম ভোটারদের, ঐতিহাসিক টান এখনও অটুট। গনি খানের প্রয়াণের পরও তাঁর নাম ভোটের রাজনীতিতে বারবার উঠে আসে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত বিধানসভা নির্বাচনে NRC ইস্যু সামনে এনে তৃণমূল মুসলিম ভোটে প্রভাব ফেললেও, এ বার সেই আস্থা আগের মতো নেই। এই পরিস্থিতিতে মৌসম নূরের কংগ্রেসে ফেরা এবং গনি পরিবারের নাম সামনে আনা কংগ্রেসের কাছে বড় ভরসা হয়ে উঠেছে।

মালদহ বরাবরই কংগ্রেসের শক্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীকোন্দলকেও রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চাইছে কংগ্রেস। এখনও তৃণমূলে মৌসম গোষ্ঠীর বহু নেতা-কর্মী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তাঁরা ভবিষ্যতে দলের ভিতরে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

তবে তৃণমূল শিবিরের দাবি, মৌসম নূরের দলবদল নিয়ে তারা বিশেষ চিন্তিত নয়। তাদের বক্তব্য, ভোট হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব দেখেই। সব মিলিয়ে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে মালদহে মৌসম নূরকে ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top