রাজ্য – স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) প্রকাশিত ১ হাজার ৮০৬ জন ‘অযোগ্য’ প্রার্থীর তালিকা নিয়ে ফের কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দেন, শুধু নাম প্রকাশ নয়—প্রার্থীদের সম্পূর্ণ নথি-সহ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতেই হবে কমিশনকে। তালিকায় কোন স্কুলে কর্মরত ছিলেন, কোন জেলায় নিয়োগ হয়েছিল এবং ঠিক কোন ক্যাটাগরিতে তাঁদের ‘টেন্টেড’ বা অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেই সব তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এর আগে হাই কোর্টের নির্দেশে এসএসসি যে তালিকা প্রকাশ করেছিল, তা অস্পষ্ট ও অসম্পূর্ণ বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি সিনহা। সেই কারণেই কমিশনকে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, র্যাঙ্ক জাম্প, ওএমআর শিটে কারচুপি, অতিরিক্ত নিয়োগ, এবং ম্যানুপুলেশন থাকা সত্ত্বেও যাঁদের শেষ পর্যন্ত চাকরি হয়নি—এই সমস্ত ক্যাটাগরির অযোগ্য প্রার্থীদের নাম আলাদা করে উল্লেখ করতে হবে। প্রতিটি প্রার্থীর ক্ষেত্রে তিনি ঠিক কোন ক্যাটাগরিতে পড়ছেন, তা স্পষ্ট করে জানাতে হবে। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আদালত।
আবেদনকারীদের তরফে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম আদালতে প্রশ্ন তোলেন, “সম্পূর্ণ তালিকা বলতে কমিশন কী বোঝাচ্ছে?” তাঁর বক্তব্য, টেন্টেড কারা এবং কে কোন ক্যাটাগরিতে পড়ছেন—এই তথ্য না থাকলে তালিকা অর্থহীন। নাম, রোল নম্বর, বাবার নাম, স্কুল, জেলা ও ক্যাটাগরি—সব তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক বলেই তিনি দাবি করেন। এমনকি যাঁরা ম্যানুপুলেশন করেছেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাকরি পাননি, তাঁরাও অযোগ্য হিসেবেই গণ্য হবেন বলে মত তাঁর। পাশাপাশি এক্সপায়ার্ড প্যানেল, অতিরিক্ত নিয়োগ এবং বিষয়ভিত্তিক নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্যও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ওঠে।
অন্যদিকে আইনজীবী প্রতীক ধর জানান, কে যোগ্য আর কে অযোগ্য—এই বিভাজন একেবারে নিখুঁত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ বহু শিক্ষক গত ৬–৭ বছর ধরে চাকরি করছেন। অসম্পূর্ণ তালিকা সেই বাস্তবতাকে আরও জটিল করে তুলছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়, যাঁদের নিয়োগ হয়নি, তাঁদের প্রাথমিকভাবে টেন্টেড বলা যায় না। তবে আদালতে স্বীকার করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সংযোজন-সহ আরও একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরির কাজ চলছে।



















