পুরুলিয়া – নতুন বছর শুরু হতেই বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছে জাগে সকলের মনেই। কিন্তু অফিসের ছুটি সামলাতে না পারায় দূরে কোথাও যাওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে সপ্তাহের শেষে দু’দিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন পুরুলিয়ার এক মনোরম গ্রামে। পাহাড়, জঙ্গল আর শান্ত প্রকৃতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই জায়গাটি শীতের মরশুমে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে আদর্শ গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
পুরুলিয়া জেলার জাজাহাতু গ্রামটি পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। ছোট ছোট পাহাড়ে ঘেরা এই অঞ্চল শীতকালে অন্যরকম সৌন্দর্য মেলে ধরে। চারপাশের সবুজ অরণ্য, নিরিবিলি পরিবেশ এবং খোলা আকাশ প্রকৃতিপ্রেমীদের মন জয় করে নেয় মুহূর্তেই। এখানে এসে একদিকে যেমন উপভোগ করা যায় ভোরের সূর্যোদয়, তেমনি বিকেলে পাহাড়ের আড়ালে সূর্যাস্তের দৃশ্যও মন ভরিয়ে দেয়।
পরিবার বা প্রিয়জনকে নিয়ে এলে এখানকার পরিবেশ আরও উপভোগ্য হয়ে ওঠে। ছোট বাচ্চাদের জন্য রয়েছে হালকা ট্রেকিংয়ের সুযোগ, যা তাদের কাছে যেমন আনন্দের, তেমনি অভিজ্ঞতারও। গ্রামের পাশ দিয়ে চলা রাস্তার দু’ধারের ঘন জঙ্গল চোখে এনে দেয় এক অন্যরকম প্রশান্তি। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, প্রকৃতির মাঝে কাটানো এই সময় মনকে সতেজ করে তোলে।
জাজাহাতু ঘুরতে এলে আশপাশেও রয়েছে দেখার মতো বেশ কয়েকটি জায়গা। নরহরা জলাধার শীতকালে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। পাশাপাশি লায়েক বাঁধ, পাঁড়রি ড্যামও ঘুরে দেখা যেতে পারে। জাজাহাতু থেকে দেখা যায় চেমটাবুরু শৃঙ্গ, এছাড়াও গজাবুরু শৃঙ্গ, সিন্দ্রোলিয়া ও কীর্তনিয়া পাহাড় ভ্রমণপ্রেমীদের টানে। শীতকালে অনেকেই এখানে পিকনিক করতেও আসেন।
যাতায়াত ব্যবস্থাও বেশ সুবিধাজনক। ট্রেনে এলে নামতে হবে মুরী জংশনে, সেখান থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে জাজাহাতু। সড়কপথে চাইলে কলকাতা থেকে গাড়িতে করে সরাসরি ঝালদা শহরে পৌঁছনো যায়। ঝালদা একটি জনবহুল শহর হওয়ায় এখানে রয়েছে একাধিক বেসরকারি হোটেল ও রিসোর্ট। পর্যটকরা চাইলে সেখানেই রাত্রিবাস করতে পারেন।
সব মিলিয়ে, কম সময়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে শান্ত ছুটি কাটাতে চাইলে পুরুলিয়ার জাজাহাতু হতে পারে আপনার পরবর্তী উইকএন্ড ডেস্টিনেশন।



















