কলকাতা -পঁচাত্তর বছরের এক বৃদ্ধার নামে ব্যাঙ্ক ঋণ নিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে বড় সাফল্য পেল লালবাজারের গোয়েন্দারা। এই মামলায় গুজরাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক অভিযুক্তকে। এর আগে কলকাতা থেকে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ফলে এই ঘটনায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার। ঘটনাটি উত্তর কলকাতার চিৎপুর থানা এলাকার।
তদন্তে উঠে এসেছে, চিৎপুরের এক বৃদ্ধার নামে ব্যাঙ্ক থেকে দুই কোটি টাকার ঋণ নেন গুজরাট থেকে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত জয়ন্ত ঘোষ ও তার সহযোগীরা। অথচ ওই বৃদ্ধা বা তাঁর পরিবার কোনওদিনই ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেননি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কীভাবে ওই ঋণ মঞ্জুর হল।
পুলিশের দাবি, ধৃতরা বৃদ্ধার নামে ভুয়ো নথি ও জাল দলিল তৈরি করে ব্যাঙ্কে জমা দেয়। সেই জাল কাগজের ভিত্তিতেই ব্যাঙ্ক থেকে দুই কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন হয়। টাকা মঞ্জুর হওয়ার পর তা হাতিয়ে নেয় প্রতারণা চক্রের সদস্যরা।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে তখন, যখন ব্যাঙ্কে নিয়মিত ইএমআই জমা পড়ছিল না। ব্যাঙ্কের কর্মীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বৃদ্ধার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে কার্যত আকাশ থেকে পড়েন বৃদ্ধা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও ঋণই নেওয়া হয়নি।
এরপর পরিবারের তরফে আইনজীবী অর্মত্য দের সহায়তায় উত্তর কলকাতার চিৎপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। মামলার গুরুত্ব বুঝে তদন্তভার তুলে নেওয়া হয় লালবাজারের গোয়েন্দাদের হাতে। তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে প্রতারণা চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
তবে মামলার মূলচক্রী জয়ন্ত ঘোষ তখনও পলাতক ছিল। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সম্প্রতি গোয়েন্দারা খবর পান, গুজরাটে গা ঢাকা দিয়ে নতুন করে একটি জালিয়াতি চক্র গড়ে তুলছে জয়ন্ত। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তার অবস্থান শনাক্ত করে গুজরাট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে পুরো প্রতারণা চক্রের শিকড়ে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে লালবাজার।




















