রাজ্য – আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি হানার প্রতিবাদে শুক্রবার থেকেই রাস্তায় নামছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিবাদ মিছিল শেষ হবে হাজরা মোড়ে। এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
আইপ্যাকের কলকাতা অফিসে তল্লাশির নামে ইডিকে ব্যবহার করে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী নথি ‘চুরি’ করেছে—এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসের সামনে দাঁড়িয়েই তিনি দলের পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করেন। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইডির অভিযানের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটে থেকেই রাজ্যের ব্লকে ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা মিছিল করবে। তাঁর কথায়, “যেভাবে ইডিকে দিয়ে বিজেপি ডাকাতি করেছে, তার প্রতিবাদেই আজ বিকেলে আমাদের কর্মীরা পথে নামবেন।”
মমতার অভিযোগ, ভোর ছ’টা থেকে এই অভিযান শুরু করা হয়, এমন এক সময়ে যখন অফিসে প্রায় কেউই উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর দাবি, “ইলেকশন আর এসআইআর সংক্রান্ত আমাদের সমস্ত রাজনৈতিক ডেটা ওরা চুরি করেছে। এটা একটা অপরাধ। আইপ্যাক কোনও প্রাইভেট অর্গানাইজেশন নয়, এটা তৃণমূলের অথরাইজড টিম। সেই টিমের কাজের সমস্ত কাগজ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। টেবিল ফাঁকা করে দিয়েছে। নতুন করে সব করতে গেলে ইলেকশনই পেরিয়ে যাবে।”
এ বিষয়ে আরও প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের অফিসে যদি আমরা এভাবে ঢুকি, তাহলে আপনারা কি মেনে নেবেন?” তাঁর দাবি, কোনও তথ্যের প্রয়োজন থাকলে ইডি বা আয়কর দফতর থেকেই তা সংগ্রহ করা যেত। বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “বিজেপিই দেশের সবচেয়ে বড় ডাকাত।”
ইডি হানা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সক্রিয়তাকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অনৈতিক। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত বা ইডির তল্লাশি সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, সাংবিধানিক সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আগেও উঠেছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২১ সালে ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও মদন মিত্রকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিবিআইয়ের নিজাম প্যালেস দফতরের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন। একইভাবে রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশির সময়ও তিনি তৎকালীন পুলিশ কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন।




















