মালদা – তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল না, তা নিজের আচরণ আর কথাতেই স্পষ্ট করে দিলেন প্রাক্তন সাংসদ মৌসম বেনজির নুর। কংগ্রেসে ‘ঘর ওয়াপসি’র পর নিজের রাজনৈতিক গড় কোতোয়ালিতে ফিরে প্রয়াত বরকত গণি খান চৌধুরীর মাজারে মাথা ঠেকিয়ে ক্ষমা চাইলেন তিনি। শনিবার কোতোয়ালি ভবনে প্রবেশের সময় মৌসম বলেন, “মামা গণি খানের মাজারে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি। তৃণমূলে যাওয়ার জন্য মামার কাছে ক্ষমা চেয়েছি।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে—তৃণমূল ছেড়ে ফের কংগ্রেসে ফেরা নিয়েই অনুশোচনা প্রকাশ করছেন তিনি।
শনিবার কোতোয়ালির বাড়ির সামনে মৌসম নুরকে স্বাগত জানাতে আয়োজন করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠানের। ফুলমালায় বরণ করা হয় তাঁকে। সেই মঞ্চ থেকেই তিনি বলেন, এই জেলার মানুষের ভালোবাসা তিনি সবসময়ই পেয়েছেন—কংগ্রেসে থাকাকালীনও, আবার তৃণমূলে থাকাকালীনও। পাশাপাশি স্বীকার করেন, বিজেপির উত্থান আটকানোর আতঙ্ক থেকেই একসময় তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর তৃণমূলের সঙ্গে থাকার পর অবশেষে ফের কংগ্রেসে ফিরে আসেন তিনি।
উল্লেখ্য, এক সপ্তাহ আগেই দিল্লিতে কংগ্রেস নেতৃত্বের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে প্রত্যাবর্তন করেন মৌসম নুর। শনিবার কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে করে মালদহে ফেরেন তিনি। আগেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কংগ্রেস কর্মীদের মালদহ টাউন স্টেশনে পৌঁছনোর আহ্বান জানানো হয়েছিল। ট্রেন থেকে নামতেই দলীয় কর্মীদের উচ্ছ্বসিত অভ্যর্থনায় ভেসে যান তিনি।
স্টেশন থেকে হুড খোলা গাড়িতে করে মৌসম পৌঁছন কোতোয়ালিতে। তাঁর পিছনে মোটরবাইক নিয়ে কংগ্রেস কর্মীদের শোভাযাত্রা নজর কাড়ে। এরপর প্রয়াত বরকত গণি খান চৌধুরীর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ প্রার্থনা সেরে কোতোয়ালি ভবনে প্রবেশ করেন মৌসম নুর। সেখানেই একটি সভার আয়োজন করা হয়।
ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, জেলা কংগ্রেস সভাপতি ও সাংসদ ইশা খান চৌধুরী-সহ জেলা ও রাজ্যের একাধিক কংগ্রেস নেতা-কর্মী। সব মিলিয়ে কোতোয়ালিতে মৌসম নুরের প্রত্যাবর্তন ঘিরে রাজনৈতিক আবহে স্পষ্টভাবেই আবেগ ও বার্তার মিশেল ধরা পড়ল।




















