বিদেশ – বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিস্ফোরক ঘোষণায়। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর প্রথমে সে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হলেও, এবার নাটক একেবারে চরমে উঠল। রবিবার, ১১ জানুয়ারি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ নিজেকেই ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রবিবার ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা একটি ছবিতে ট্রাম্পের অফিসিয়াল প্রতিকৃতি দেখা যায়। সেই ছবির বায়োতে স্পষ্ট ভাবে লেখা ছিল—‘ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, ভেনেজুয়েলা, জানুয়ারি ২০২৬’। একই সঙ্গে উল্লেখ ছিল তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম এবং ৪৭তম রাষ্ট্রপতি। পোস্টটি প্রকাশ্যে আসতেই মুহূর্তের মধ্যে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয়বার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি মাসের শুরুতেই ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে বড় আকারের সামরিক অভিযান চালায় আমেরিকা। সেই অভিযানের পর ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে মার্কিন সেনা। শুধু তাই নয়, মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও আটক করা হয়। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই ঘটনার পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, যতদিন না ভেনেজুয়েলায় একটি ‘নিরাপদ, সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর’ সম্পন্ন হচ্ছে, ততদিন দেশটির প্রশাসনিক দায়িত্ব আমেরিকার হাতেই থাকবে। তাঁর কথায়, কোনও ঝুঁকি নেওয়া হবে না এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।
এদিকে গত সপ্তাহেই ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তেলমন্ত্রী দেলসি রদ্রিগেজ আনুষ্ঠানিক ভাবে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তবে সেই ঘোষণার মধ্যেই ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারকে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল ‘উচ্চমানের ও অনুমোদিত তেল’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করতে হবে। তাঁর দাবি, এই তেল বাজারদরে বিক্রি করা হবে এবং সেই পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যাতে ভেনেজুয়েলা ও আমেরিকার জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।
ট্রাম্প আরও জানান, এই পরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর করতে তিনি জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটকে নির্দেশ দিয়েছেন। স্টোরেজ জাহাজের মাধ্যমে তেল পরিবহণ করে সরাসরি আমেরিকার আনলোডিং ডকে নিয়ে আসা হবে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন পরিস্থিতি—একই সঙ্গে দুই দেশের রাষ্ট্রপতি দাবি করে বসা এক নেতাকে ঘিরে বাড়ছে জল্পনা ও উত্তেজনা।




















