জলপাইগুড়ি – সপ্তাহের প্রথম দিনের সকালেই বেজায় বিপত্তির মুখে পড়লেন জলপাইগুড়ির করোলাভ্যালি চা বাগানের শ্রমিকরা। কাজে যোগ দিতে গিয়েই চোখে পড়ে আতঙ্কজনক দৃশ্য—বাগানের মাঝখানে একটি গর্তে পড়ে কাতরাচ্ছে একটি হাতি। সাতসকালে এমন দৃশ্য দেখে চা বাগান জুড়ে হুলুস্থুল পড়ে যায়। আতঙ্কে কাজ বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। কেউ হাতির করুণ অবস্থায় আহা-উঁহু করলেও, কাছে যাওয়ার সাহস পাননি কেউই।
খবর দেওয়া হয় বনদপ্তরে। সোমবার সকালেই বৈকুণ্ঠপুর বনবিভাগের বেলাকোবা রেঞ্জের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে গরুমারা ও জলপাইগুড়ি বন বিভাগের কর্মীরাও সেখানে হাজির হন। গর্তে পড়ে থাকা হাতিটিকে উদ্ধারের জন্য দ্রুত ক্রেন আনা হয়। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টার পর অবশেষে গর্ত থেকে তুলতে সক্ষম হন বনকর্মীরা।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল থেকে তিনটি হাতির একটি দল তিস্তার গা ঘেঁষে বাজিতপাড়া হয়ে চা বাগানে ঢুকে পড়ে। তাদের মধ্যে দু’টি হাতি আবার জঙ্গলে ফিরে গেলেও একটি ছোট দাঁতাল ছুটতে গিয়ে বাগানের মাঝের গর্তে পড়ে যায়। তখন থেকেই সে আটকে পড়েছিল। নিজে নিজে উঠতে না পেরে ছটফট করছিল এবং মাঝেমধ্যেই ডাকছিল, যা শুনে আতঙ্ক আরও বাড়ে।
হাতিটিকে উদ্ধার করার পর গর্ত থেকে বেরিয়েই সে দৌড়ে জঙ্গলের দিকে ছুটে যায়, সম্ভবত নিজের দলের খোঁজে। এই ঘটনার পর হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন চা বাগানের শ্রমিকরাও। তবে হাতির দাপাদাপির জেরে এলাকায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই কারণে বনদপ্তরের তরফে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চা বাগান ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
এখন বনদপ্তরের মূল লক্ষ্য, বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া তিনটি হাতিকে আবার একত্রিত করা এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা।



















