দেশ – দিল্লি–বার্লিন সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জের ভারত সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দু’দিনের সফরের প্রথম দিনেই গুজরাতের গান্ধীনগরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন তিনি। এই বৈঠক ঘিরে আগেই বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ করেই দুই দেশ একযোগে ১৯টি সমঝোতা স্মারকে সই করে।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সহমত পোষণ করে ভারত ও জার্মানি। পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো, শিক্ষাক্ষেত্রে ছাত্র ও ইন্টার্ন বিনিময় এবং দুই দেশের মেধা ও দক্ষ মানবসম্পদ আদানপ্রদানের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সবচেয়ে বড় ঘোষণা আসে ভিসা নীতি নিয়ে। বৈঠক শেষে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ জানান, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য জার্মানির ট্রানজিট ভিসা আরও সহজ ও শিথিল করা হবে। এর ফলে জার্মানি হয়ে অন্য দেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভারতীয় যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি জার্মানির স্বাস্থ্য পরিষেবায় ভারতীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত এবং আরও সহজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পথে হাঁটতে রাজি হয়েছে দুই দেশ। জার্মানির কাছ থেকে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংগ্রহের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন ভারতীয় কর্তারা। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফরের পর ভারত–জার্মানি প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও মজবুত ভিত্তি পাবে।
গান্ধীনগরের বৈঠকের আগেই সফরের সাংস্কৃতিক দিকেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন জার্মান চ্যান্সেলর। তিনি আমেদাবাদের সবরমতী আশ্রমে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান। এরপর সাবরমতী নদীর ধারে আন্তর্জাতিক ঘুড়ি উৎসবে যোগ দেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর ঘুড়ি ওড়ানোর মুহূর্ত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও নজর কেড়েছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ভারত সফরের আগেই জার্মান চ্যান্সেলরের এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ইউরোপের দুই প্রধান শক্তির সঙ্গে পরপর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ভারতের বিশ্বরাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে বলেই মত বিশ্লেষকদের।
দু’দিনের এই সফর কেবল কূটনৈতিক সৌজন্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভবিষ্যতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের জন্য একটি শক্ত ভিত তৈরি করল বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।




















