পূর্ব বর্ধমান – ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর (SIR) নিয়ে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তি বা অসুবিধা এড়াতে কাজ করছেন বিএলও (BLO)। ফর্ম বিলি থেকে শুরু করে শুনানিপর্বে জিজ্ঞাসাবাদ, সবকিছুই দেখা হচ্ছে তাঁদের তত্ত্বাবধানে। কিন্তু এবার সেই বিএলও-ই নিজেই শুনানির নোটিস (BLO hearing notice) পেলেন। কেতুগ্রামের ১৬৫ নং ওয়ার্ডের বিএলও দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় নিজে নিজেকে নোটিস ধরালেন। নোটিস দেওয়া হয়েছে তাঁর স্ত্রী এবং শ্বশুরকেও।
কমিশনের (ECI) সাইটে দেখা গেছে, দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের বাবার পদবিতে বানান ভুল রয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরের বয়সের ফারাক ৫০ বছর। সেই কারণে তাঁদেরও নোটিস দেওয়া হয়েছে। দেবশঙ্কর জানান, ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে বাবার ঠিক নাম ছিল, কিন্তু লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি (Logical Discrepancy) পদবিতে বানান ভুল থাকায় মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলেন। তবুও শুনানিতে ডাকা হয়েছে। একইভাবে, বয়সের ফারাকের বিষয়টি নথি অনুযায়ী ঠিক থাকলেও নোটিস দেওয়া হয়েছে।
বিএলও আরও জানিয়েছেন, “সাধারণ মানুষ আমাকে প্রশ্ন করলে সব বুঝে নেন। আমার স্ত্রীও অবাক হয়েছিল নোটিস পেয়ে, তাঁকেও বুঝিয়ে দিয়েছি।”
বুধবার সকালেই কেতুগ্রামে এসআইআর-শুনানিতে ডেকে হয়রানির অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। হাতে নোটিস নিয়ে রাস্তায় বসে প্রতিবাদে সামিল হন প্রায় ৩০০ জন বাসিন্দা। অভিযোগ, একেকটি বুথ থেকে শতাধিক মানুষকে সামান্য ভুলের কারণে নোটিস দেওয়া হচ্ছে। এক বিক্ষোভকারী বলেন, “বয়স্ক মানুষদের ডাকা হচ্ছে, অনেকেই অসুস্থ। কমিশন যতক্ষণ শুনানি নিয়ে আশ্বস্ত করছে না, আমরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাব।”




















