বিদেশ – সরকার বিরোধী আন্দোলনে জ্বলছে ইরান। আন্দোলনে যোগ দেওয়া বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছিল তেহরান। সেই আবহেই ২৬ বছরের এক যুবকের ফাঁসির সাজা কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পরই ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ফের উত্তেজনা বেড়েছে।
এর মধ্যেই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করা হলে আমেরিকা “অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ” নেবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে তেহরান।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে। তারা যখন হাজার হাজার মানুষ হত্যা করছে, আর এখন ফাঁসির খবর পাওয়া যাচ্ছে, তখন আমরা দেখব এর পরিণতি তাদের জন্য কী হয়।” তিনি জানান, এই পরিস্থিতি আমেরিকা নজরে রাখছে।
এর আগেও ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ইরানকে কড়া বার্তা দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ইরানি কর্তৃপক্ষকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য “বড় মূল্য দিতে হবে”। পাশাপাশি ইরানের জনগণকে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ট্রাম্প লিখেছিলেন, “আপনারা প্রতিবাদ চালিয়ে যান, সহায়তা আসছে।”
এতেই থামেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি আরও জানান, “বিক্ষোভকারীদের অর্থহীন হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমস্ত বৈঠক বাতিল করেছি।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট, ইরান প্রশ্নে কঠোর অবস্থানেই অনড় হোয়াইট হাউস।
ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের তরফে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বক্তব্য আসলে ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির চেষ্টা। তারা দাবি করেছে, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
প্রসঙ্গত, ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস দমননীতিতে মৃতের সংখ্যা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। একটি মানবাধিকার গোষ্ঠীর দাবি, এখনও পর্যন্ত ২০০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আমেরিকা-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা HRANA জানিয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও গত ১৭ দিনে তারা অন্তত ১,৮৫০ জন বিক্ষোভকারী, সরকারের সঙ্গে যুক্ত ১৩৫ জন, ৯ জন সাধারণ নাগরিক এবং ৯ জন শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। এক ইরানি কর্মকর্তাও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা ২০০০ ছাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে ইরানের পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিক্ষোভ, ফাঁসি এবং পাল্টা হুঁশিয়ারির রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।



















