দেশ – সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে গিগ কর্মীদের ধারাবাহিক আন্দোলন ও ধর্মঘটের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে কুইক কমার্স সংস্থাগুলির উপর। সেই প্রেক্ষিতেই বড় সিদ্ধান্ত নিল ব্লিঙ্কিট। সংস্থাটি তাদের ব্র্যান্ডিং ও প্রচার থেকে ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’-র প্রতিশ্রুতি সরিয়ে নেওয়ার পথে হাঁটছে। ডেলিভারি কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের আহ্বানের আবহেই এই পদক্ষেপ।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে দেশব্যাপী গিগ কর্মীদের ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়। সেই আন্দোলনে কাজের অতিরিক্ত চাপ, অনিরাপদ পরিবেশ, কম পারিশ্রমিক এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাবের মতো একাধিক গুরুতর বিষয় তুলে ধরেন ডেলিভারি কর্মীরা। সেই ধর্মঘটের পর থেকেই সরকারের তরফে বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত মিলছিল।
গিগ কর্মীদের সুরক্ষার স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই কুইক কমার্স ও ফুড ডেলিভারি সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য ব্লিঙ্কিট, জেপ্টো, সুইগি ও জোমাটোর মতো প্ল্যাটফর্মগুলির আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বিজ্ঞাপন ও মার্কেটিং থেকে নির্দিষ্ট ডেলিভারি সময়সীমা, বিশেষ করে ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’-র মতো প্রতিশ্রুতি তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। সরকারের মতে, এই ধরনের সময়সীমা ডেলিভারি কর্মীদের অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ করতে বাধ্য করে।
সূত্রের খবর, বৈঠকের পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি সরকারকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা বিজ্ঞাপন, প্রোমোশন ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ডেলিভারির নির্দিষ্ট সময়ের প্রতিশ্রুতি সরিয়ে ফেলবে। সেই সিদ্ধান্তের প্রথম বাস্তব রূপ দেখা গেল ব্লিঙ্কিটের ক্ষেত্রে।
জানা গিয়েছে, ব্লিঙ্কিট তাদের সমস্ত ব্র্যান্ডিং বার্তা থেকে ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’ শব্দবন্ধটি বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বিজ্ঞাপন, সোশ্যাল মিডিয়া প্রচার কিংবা বিভিন্ন প্রোমোশনাল কনটেন্টে আর এই সময়সীমার উল্লেখ থাকবে না। যদিও এর অর্থ এই নয় যে ইচ্ছাকৃতভাবে ডেলিভারিতে দেরি করা হবে। সংস্থা সূত্রে জানা যাচ্ছে, এখন ডেলিভারির সময় নির্ভর করবে দোকানের দূরত্ব ও সিস্টেম ডিজাইনের উপর। তবে জনসমক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের প্রতিশ্রুতি আর দেওয়া হবে না, যাতে কর্মীদের উপর অযথা চাপ না পড়ে।
এই প্রসঙ্গে আরও জানানো হয়েছে, রাইডারদের টি-শার্ট, জ্যাকেট ও ডেলিভারি ব্যাগে ‘১০ মিনিট’-এর মতো বার্তা এবং গ্রাহক অ্যাপে টাইমার—সবই ডেলিভারি কর্মীদের মানসিক ও শারীরিক চাপ বাড়াচ্ছিল। গত মাসে কয়েকশো ডেলিভারি পার্টনারের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, অনেকেই কম পারিশ্রমিকে অতিরিক্ত কাজ করছেন এবং নিজেদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে এই প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যস্ত রয়েছেন। সেই বাস্তব অভিজ্ঞতার পরই নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।




















