একলা লড়াইয়ের দিকেই ঝুঁকছে প্রদেশ কংগ্রেস, জোট নিয়ে ভিন্নমত দু’একটি জেলায়

একলা লড়াইয়ের দিকেই ঝুঁকছে প্রদেশ কংগ্রেস, জোট নিয়ে ভিন্নমত দু’একটি জেলায়

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – ২৯৪ আসনে একা লড়াই কতটা সহজ হবে, সেই প্রশ্ন থাকলেও প্রদেশ কংগ্রেসে সিপিএম নির্ভরতা যে ক্রমশ কমছে, তা স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল জেলা সভাপতিদের মতামতে। সোমবার প্রার্থী নির্বাচন ও জোট প্রসঙ্গ নিয়ে জেলা সভাপতিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় সব জেলার সভাপতিই একলা লড়াইয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন।
তবে দু’টি জেলা কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলেছে। এক জেলার সভাপতি জানিয়েছেন, জোটে যাওয়ার প্রশ্নই নেই, তবে একান্তই যদি ভাবতে হয়, সেক্ষেত্রে সিপিএমকে নিয়েই আলোচনা হতে পারে। আবার অন্য এক জেলার সভাপতি একলা লড়াইয়ের পক্ষেই জোর দিলেও পরিস্থিতি বিশেষ হলে তৃণমূলের সঙ্গে কিছুটা সমন্বয়ের কথা ভাবা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন।
এর মধ্যেই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এআইসিসি নেতৃত্বকে কলকাতায় এনে বড় সমাবেশ করার পরিকল্পনা করছে প্রদেশ কংগ্রেস। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের উপস্থিতি প্রায় চূড়ান্ত বলেই জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আনার দাবিও জেলা স্তর থেকে উঠে এসেছে এবং তা নিয়ে এআইসিসির কাছে তদ্বির শুরু হয়েছে। প্রথমে ২৮ জানুয়ারি শহিদ মিনারে সমাবেশের প্রস্তাব থাকলেও, হাইকমান্ডের সময়সূচির কারণে তা পিছিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে করার কথা ভাবা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতেই প্রদেশ সভাপতি বিধানসভা পিছু তিনজন করে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম চেয়েছেন জেলা সভাপতিদের কাছে। যদিও জেলা থেকে তালিকা পাঠানোর পরও বহু নেতা বিধান ভবনে দলের সদর দপ্তরে এসে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা জানিয়ে বায়োডাটা জমা দিচ্ছেন।
জোট প্রসঙ্গে জেলা সভাপতিদের মতামত জানতে চাওয়া হলে মুর্শিদাবাদ জেলা এই বৈঠকে অংশ নেয়নি। বাকি জেলার প্রতিনিধিদের বক্তব্য প্রায় একই। তাঁদের মতে, “২০১৬ সাল থেকে একটানা জোট চলছে। দশ বছর হয়ে গেল। এবার নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। হারি বা জিতি, মার খাই বা টিকে থাকি—একাই লড়ব। অন্তত সব কেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থী থাকবে, তাতেই দলের বাস্তব শক্তি বোঝা যাবে।”
তবে ব্যতিক্রমী প্রস্তাবও এসেছে। বর্ধমান শিল্পাঞ্চলের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, যদি জোট করতেই হয়, তাহলে সিপিএমের সঙ্গেই যাওয়া ভালো। অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা টাউনের সভাপতি মহম্মদ মোক্তার তৃণমূলের সঙ্গে সম্ভাব্য সমন্বয়ের কথা তুলেছেন। যদিও উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—অধিকাংশ জেলারই সুর এক, ‘একলা চলো’।
দলের এক নেতার কথায়, “হাইকমান্ড এবার ভোট ও জোট সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তৃণমূল স্তরের মতামতকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেছে। সেই কারণেই জেলা থেকে ব্লক স্তর পর্যন্ত সবার মত নিয়ে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে দিল্লিতে।”

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top