বিদেশ – দীর্ঘ দেড়শো বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে স্পেনে। রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও রানি লেতিজিয়ার জ্যেষ্ঠ কন্যা, কুড়ি বছর বয়সি রাজকন্যা লেওনর শীঘ্রই বসতে চলেছেন স্পেনের রাজসিংহাসনে। সম্রাজ্ঞী হিসেবে দায়িত্ব নিলে তিনিই হবেন দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় মহিলা শাসক। শেষবার প্রায় ১৭০ বছর আগে স্পেন শাসন করেছিলেন রানি দ্বিতীয় ইসাবেলা।
২০০৫ সালের ৩১ অক্টোবর মাদ্রিদে জন্ম লেওনরের। তিনি স্পেনের ঐতিহ্যবাহী বুরবোঁ রাজপরিবারের সদস্য, যা ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী রাজবংশ হিসেবে পরিচিত। সিংহাসনে তাঁর আরোহণ শুধু রাজপরিবারের ইতিহাসেই নয়, স্পেনের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরম্পরাতেও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শিক্ষাগত দিক থেকেও লেওনর যথেষ্ট কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ইংল্যান্ডের খ্যাতনামা ইউডব্লিউসি আটলান্টিক থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। স্প্যানিশ ও ইংরেজির পাশাপাশি চিনা ও আরবি-সহ একাধিক ভাষায় দক্ষ লেওনর আন্তর্জাতিক মহলেও নজর কেড়েছেন।
স্পেনের সংবিধান অনুযায়ী, সিংহাসনের উত্তরাধিকারীকে বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সেই প্রথা মেনেই স্নাতক হওয়ার পর তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেন রাজকন্যা। স্থলসেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনা—তিন শাখাতেই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। বায়ুসেনার প্রশিক্ষণ ধাপটি ছিল তাঁর সামরিক প্রস্তুতির শেষ পর্যায়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পিলেটাস পিসি-২১ এয়ারক্রাফটে প্রথম একক উড়ান সম্পন্ন করেন লেওনর। স্পেনীয় রাজপরিবারের ইতিহাসে তিনিই প্রথম মহিলা, যিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। স্পেনীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শীঘ্রই তাঁকে ‘গোল্ড মেডেল অফ দ্য রিজিওন অফ মারসিয়া’ সম্মানে ভূষিত করা হবে।
ভবিষ্যতে স্পেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে লেওনরের ভূমিকা কী হয়, তা জানতে আগ্রহী দেশের মানুষ। পাশাপাশি, উৎসাহী ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির এক সম্রাজ্ঞী হিসেবে তাঁর সিংহাসন-অভিষেক নিয়েও কৌতূহল তুঙ্গে।
ব্যক্তিগত জীবনে লেওনর ভীষণ ফুটবলপ্রেমী বলেও জানা যায়। স্পেনের তরুণ ফুটবলার গাভির প্রতি তাঁর অনুরাগের কথা শোনা গেলেও, সেই প্রেমকথা বাস্তব রূপ পায়নি বলেই খবর। সব মিলিয়ে, রাজকন্যা লেওনরের হাত ধরেই নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় স্পেন।




















