রাজ্য – শুনানির সময় ভোটাররা জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতে কেন ‘রিসিভ কপি’ পাচ্ছেন না, তা নিয়ে আগেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নির্দেশনায় বুধবার তৃণমূলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দফরে স্মারকলিপি জমা দেন। এরপরেই কলকাতার সিইও দফর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে।
সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে একটি সুপারিশ পাঠানো হবে। ভোটাররা যে নথি নিয়ে শুনানিতে যাবেন, তার দুটি কপি ফটোকপি সঙ্গে রাখতে হবে। তার একটি কপি ‘রিসিভ কপি’ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে—এই প্রস্তাব করা হচ্ছে।’ তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই প্রস্তাব কার্যকর হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অনুমতির উপর নির্ভর করছে। সুপারিশ পাঠানো হলেও দিল্লি তা মানবে—তার কোনও গ্যারান্টি নেই।
উল্লেখ্য, ‘রিসিভ কপি’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র চিঠিতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনেও তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন। এছাড়াও, বুধবার ফারাক্কা অঞ্চলে শুনানি কেন্দ্রে ভাঙচুরের অভিযোগে এফআইআর দায়েরের খবরও নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে। সিইও জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গও রয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে শুনানি পর্ব শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনী কমিশনকে এখনও পর্যন্ত পাঁচটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যার শেষ চিঠিতেই ‘রিসিভ কপি’ না দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ‘রিসিভ কপি’ নিয়ে রাজ্যের সিইও দফর সক্রিয় হলেও, শেষ সিদ্ধান্ত দিল্লির হাতে। এখন নজর থাকবে, জাতীয় নির্বাচন কমিশন এই প্রস্তাবকে অনুমোদন দেবে কি না।




















