অগ্নিসাক্ষী করে যাকে বিয়ে, তাকেই এসআইআর শুনানির নোটিশ—বিএলও স্বামীর ‘নিরপেক্ষতা’র গল্প পূর্ব বর্ধমানে

অগ্নিসাক্ষী করে যাকে বিয়ে, তাকেই এসআইআর শুনানির নোটিশ—বিএলও স্বামীর ‘নিরপেক্ষতা’র গল্প পূর্ব বর্ধমানে

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


পূর্ব বর্ধমান – অগ্নিসাক্ষী করে বিয়ে করা নিজের স্ত্রীকেই এসআইআর শুনানির নোটিশ ধরাতে হল এক বিএলও স্বামীকে। শুধু তাই নয়, বাবার পদবীর বানানে সামান্য সমস্যার কারণে তাঁর নিজের নামেও এসেছে শুনানির নোটিশ। পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম বিধানসভা এলাকার এই ঘটনাকে ঘিরে এখন চর্চা তুঙ্গে। জানা গিয়েছে, স্বামী-স্ত্রী হাতে হাত ধরেই নির্দিষ্ট দিনে এসআইআর শুনানিতে যাবেন এবং সাধারণ ভোটারদের মতো লাইনে দাঁড়াবেন।
ওই দম্পতির নাম দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় ও অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। দেবশঙ্কর পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম বিধানসভার ভোমরকোল অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পাশাপাশি ১৬৫ নম্বর বুথের তিনিই বিএলও। কেতুগ্রাম থানার অন্তর্গত কোরালা গ্রামে তাঁর বাড়ি। অন্যদিকে স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় কাটোয়া শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চৌরঙ্গী এলাকায় একমাত্র পুত্র সন্তানকে নিয়ে থাকেন।
সমস্যার সূত্রপাত এসআইআর প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানির নোটিশ ঘিরে। দেবশঙ্করের কথায়, তাঁদের বুথে মোট ৭১২ জন ভোটার রয়েছেন। এর আগে প্রথম পর্যায়ে ৭ জনের শুনানি হয়েছে। এবার দ্বিতীয় পর্যায়ে ৬২ জন ভোটারের জন্য নোটিশ এসেছে। সেই তালিকাতেই রয়েছে তাঁর নিজের স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের নাম, এমনকি নিজের নামও। যেহেতু তিনিই ওই বুথের বিএলও, তাই নিয়ম মেনেই তাঁকে নিজের এবং স্ত্রীর নোটিশ গ্রহণ করতে হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, “এটা সম্পূর্ণরূপে একটি লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশ দিয়েছে, আমাকে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হয়েছে। এখানে নিজের পরিবার বলে আলাদা কোনও গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ নেই।” তাঁর মতে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও ব্যক্তিগত আবেগ বা সম্পর্কের জায়গা নেই, নিয়মই শেষ কথা।
সাধারণত এসআইআর শুনানির নোটিশ পাওয়ার পর ভোটাররা নানা প্রশ্ন নিয়ে বিএলও-র দ্বারস্থ হন। এই ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। নিজের স্ত্রীর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে দেবশঙ্করকে। তবে স্ত্রীর প্রশ্নবানে ভেঙে পড়েননি তিনি। একটাই কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন, “ম্যাডাম, নির্বাচন কমিশন আমাকে যেমন নির্দেশ দিয়েছে, আমি তেমনটাই করেছি।”
অন্যদিকে অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রথমে বিষয়টি তাঁকে অবাক করেছিল। তবে পরে তিনি বুঝেছেন, এটা তাঁর স্বামীর দায়িত্বের অংশ। তাঁর কথায়, “উনি তো নিজের কাজটাই করছেন। তাই নির্দিষ্ট দিনে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে আমিও শুনানি কেন্দ্রে যাব। আমরা দু’জনেই লাইনে দাঁড়াব।” স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে শুনানিতে যাওয়ার এই সিদ্ধান্তই যেন গোটা ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা ও নিয়ম পালনের এমন দৃষ্টান্ত বিরল বলেই মনে করছেন অনেকেই। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালনের এই ঘটনা ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top