কলকাতা – বুধবার বিকেলে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের গল্ফ রোডের বাড়িতে পৌঁছন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সেখানে ছিলেন তিনি। তুঁতে রঙের পাঞ্জাবীতে অভিষেককে নিজের বাড়িতে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রবীণ অভিনেতা। রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী দীপা মল্লিক।
এই সাক্ষাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। রাজ্য সরকারের ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ কর্মসূচি নিয়েই মূলত এই বৈঠক। গত ১৫ বছরে রাজ্যে কী কী উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে এবং কোথায় কী ঘাটতি রয়ে গেছে—সবটাই বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন অভিষেক। পাশাপাশি গত পাঁচ বছরে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার মধ্যেও রাজ্য সরকার কীভাবে উন্নয়নের ধারা বজায় রেখেছে, সেই বিষয়টিও তিনি ব্যাখ্যা করেন রঞ্জিত মল্লিকের কাছে।
টানা এক ঘণ্টা রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা চললেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন খেয়েছেন স্রেফ অর্ধেক কাপ দুধ চা। কথোপকথনের মধ্যেই ব্যক্তিগত স্মৃতির কথাও উঠে আসে। অভিষেক জানান, মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি রঞ্জিত মল্লিকের ছবি ‘গুরুদক্ষিণা’ দেখেছিলেন। এই কথা শুনে রঞ্জিত মল্লিক মজা করে মন্তব্য করেন, অভিষেক যখন সিনেমা দেখা শুরু করেছেন, তখন তিনি নিজেই প্রায় অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার পথে।
বৈঠক শেষে রঞ্জিত মল্লিকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক তাঁর অত্যন্ত প্রিয় একজন শিল্পী। তিনি বলেন, রঞ্জিত মল্লিক যেসব ছবিতে অভিনয় করেছেন, তার অনেকগুলোই তাঁর জন্মের আগেই মুক্তি পেয়েছিল, তবু সেগুলোর প্রতি তাঁর আলাদা ভালোবাসা রয়েছে।
অভিষেক আরও স্পষ্ট করেন, এই সাক্ষাতে রাজনীতি নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজ্য সরকারের ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরা এবং কেন্দ্রের বঞ্চনার মধ্যেও কীভাবে বাংলা এগিয়ে চলেছে, সেই বিষয়টি জানানো। এদিন তাঁর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিককে প্রশ্ন করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে বলেন, “আমার ওকে খুব ভালো লাগে।”



















