গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬: আধ্যাত্মিক সমাগমে মিলল বিশ্বস্ততা ও সুশৃঙ্খল অভিজ্ঞতা

গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬: আধ্যাত্মিক সমাগমে মিলল বিশ্বস্ততা ও সুশৃঙ্খল অভিজ্ঞতা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দক্ষিন24 পরগণা- ‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’—এই প্রাচীন আধ্যাত্মিক স্লোগানকে সামনে রেখে গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬ এক অনন্য জনসমাগমে পরিণত হলো। মকর সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের সঙ্গমস্থলে দেশের নানা প্রান্ত থেকে এবং বিদেশ থেকেও লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী অংশ নেন। কনকনে শীত, ঘন কুয়াশা বা দূরত্বের প্রভাব কাউকেই থামাতে পারেনি; ভক্তরা ভিড়ে ঘিরে পুণ্যস্নানে অংশ নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিটে মকর সংক্রান্তির মাহেন্দ্রক্ষণ অতিক্রম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। মেলার শেষ দিনে সাগরদ্বীপের প্রাঙ্গণে এক উচ্চপর্যায়ের সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, পরিবহন ও পঞ্চায়েত দফতরের মন্ত্রীরা এবং জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা।
মন্ত্রী জানান, এ বছর মেলায় রেকর্ড ১ কোটি ৩০ লক্ষ পুণ্যার্থী পুণ্যস্নান করেছেন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বসানো ১৫টি ‘বন্ধন বুথ’-থেকে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ই-পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন। নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের ভূমিকা চোখে পড়ার মতো ছিল। হারিয়ে যাওয়া ৬৬৩২ জন পুণ্যার্থীর মধ্যে ৬৬২৭ জনকে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ছিনতাই ও পকেটমারির ৪৫৬টি অভিযোগের মধ্যে ৪৩৮টি ক্ষেত্রে খোয়া যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ৮৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চিকিৎসা পরিষেবাতেও বিশেষ তৎপরতা দেখা গেছে। মেলা চলাকালীন গুরুতর অসুস্থ পাঁচ জন পুণ্যার্থীকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়েছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দু’জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে; মৃতরা হলেন অসমের মিঠু মণ্ডল ও বিহারের মৃত্যুঞ্জয় সিং।
মেলার শেষে অধিকাংশ পুণ্যার্থী ঘরমুখো হয়ে গেছেন। সামগ্রিকভাবে এবারের গঙ্গাসাগর মেলা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব দফতরের ভূয়সী প্রশংসা জানিয়েছেন মন্ত্রী।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top