রাজ্য – বাংলায় চলছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)। এনুমারেশন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ইতিমধ্যেই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকায় কোনও ভুল থাকলে বা আপত্তি জানাতে চাইলে আবেদনের শেষ দিন ছিল ১৫ জানুয়ারি ২০২৬। তবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে সেই সময়সীমা আরও চার দিন বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন আগামী ১৯ জানুয়ারি, সোমবার পর্যন্ত সংশোধনের আবেদন করা যাবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোয়া, লাক্ষাদ্বীপ, রাজস্থান এবং পুদুচেরি—এই চার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকেও একইভাবে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগ ও আপত্তি জানানোর জন্যই এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।
SIR শুরুর সময়ই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন ঘোষণা করেছিল কমিশন। যদিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকা প্রকাশের পরই জানা যায়, প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, খসড়া তালিকায় নাম থাকা বা বাদ যাওয়া কোনওটাই চূড়ান্ত নয়। সেখানে ভুল থাকতে পারে বলেই আপত্তি ও অভিযোগ জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়।
প্রথমে আপত্তি জানানোর জন্য প্রায় এক মাস সময় দেওয়া হয়েছিল, যার শেষ দিন ছিল ১৫ জানুয়ারি। কিছু নির্দিষ্ট কারণের জন্যই সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ১৯ জানুয়ারি করা হয়েছে বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। নির্দিষ্ট করে জানানো হয়েছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল ভোটার লিস্ট প্রকাশের কথা রয়েছে। ভোটার তালিকা প্রস্তুতে কোনও রকম ত্রুটি না থাকুক, সেই লক্ষ্যেই অভিযোগ জানানোর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে দাবি।
এদিকে SIR-এর হিয়ারিং পর্ব চলাকালীন মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে নথি হিসেবে গ্রহণ করার আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার সেই আবেদন খারিজ করে দেয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড হিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, SIR সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষকে সমস্যার মুখে ফেলবে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির নির্দেশেই নির্বাচন কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।



















