১৮ বছর পর ফের উত্তাল সিঙ্গুর, প্রধানমন্ত্রীর সভাকে ঘিরে জমি নিয়ে নতুন বিতর্ক

১৮ বছর পর ফের উত্তাল সিঙ্গুর, প্রধানমন্ত্রীর সভাকে ঘিরে জমি নিয়ে নতুন বিতর্ক

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – ২০০৮ সালের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে ২০২৬-এর আগে আবারও আন্দোলনের আবহ সিঙ্গুরে। এক সময় যে জমি ঘিরে শিল্পায়ন বনাম কৃষকের অধিকার নিয়ে উত্তাল হয়েছিল বাংলা, সেই ‘টাটার জমি’ই ফের রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। আগামী ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে জনসভা করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অভিযোগ উঠেছে, জমির মালিকদের অনুমতি না নিয়েই ওই জমিতে সভামঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। শিল্প ও রাজনীতির এই মুখোমুখি অবস্থান ১৮ বছর পর আবারও সিঙ্গুরকে শিরোনামে এনে ফেলেছে।
স্থানীয়দের দাবি, যে জমিতে প্রধানমন্ত্রীর সভা হওয়ার কথা, তা এখনও ব্যক্তিমালিকানাধীন। সেই জমির মালিকদের কোনওরকম সম্মতি নেওয়া হয়নি। এই অভিযোগে একাধিক কৃষক লিখিতভাবে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন সিঙ্গুরের বিধায়ক ও রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভা হলেও কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। জমির মালিকদের অনুমতি নেওয়াই নিয়ম, অথচ সেই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ।
মন্ত্রী জানান, গোপালনগর মৌজার একাধিক জমির মালিক বিডিও ও পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। দিলীপকুমার কোলে, মোহিতকুমার কোলে, সনাতন সাঁতরার মতো স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগপত্রের প্রতিলিপিও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন তিনি। অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য তাঁদের কাছ থেকে মৌখিক বা লিখিত কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি।
এই প্রসঙ্গে বেচারাম মান্নার কটাক্ষ, সিঙ্গুরের মাটি গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের। এখানে বহু রাজনৈতিক নেতা সভা করেছেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় দেশের প্রধানমন্ত্রীও নিয়ম মানছেন না। তাঁর দাবি, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে এবং আইনানুগ পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন সিঙ্গুরের বিজেপি নেতা সঞ্জয় পাণ্ডে। তাঁর বক্তব্য, এখন যে কেউ মিথ্যে অভিযোগ তুলতে পারে এবং তার আইনি জবাব দেওয়ার পথ খোলা রয়েছে। এসব অভিযোগ নিয়ে তাঁরা চিন্তিত নন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজি টিম এলাকা খতিয়ে দেখার পরই সভার চূড়ান্ত ছাড়পত্র দিয়েছে। যদিও প্রশাসনিক অনুমতির দাবি থাকলেও জমির মালিকদের সম্মতির প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে।
এক সময় শিল্পায়নের প্রতীক হয়ে ওঠা সিঙ্গুর আজ আবার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু। ১৮ বছর আগের জমি আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে প্রশ্ন উঠছে—এবার কি সেই ইতিহাসই নতুন মোড়ে ফিরে আসবে?

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top