পূর্ব মেদিনীপুর – ঠিক যেন ঘরের ছেলে। নন্দীগ্রামের সেবাশ্রয় শিবিরে স্থানীয় মানুষের কাছে গিয়ে একের পর এক সমস্যার কথা শুনলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু শোনা নয়, সমাধানের আশ্বাসও দিলেন তিনি। সেই আবহেই এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল নন্দীগ্রাম—এক বৃদ্ধা সন্তানস্নেহে অভিষেককে জড়িয়ে ধরেন। অভিষেকও আপনজনের মতোই তাঁর সব অভিযোগ মন দিয়ে শোনেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য শিবিরের দুটি মডেল ক্যাম্পের উদ্বোধনের কথা আগেই জানানো হয়েছিল। বাম আমলের জমি আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত শহিদ পরিবারের সদস্যদের হাত দিয়েই এই শিবিরের উদ্বোধন হয় বৃহস্পতিবার। নির্ধারিত সময়েই সেখানে পৌঁছে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা শিবির ঘুরে দেখেন তিনি এবং চিকিৎসা পরিষেবার খোঁজখবর নেন।
অভিষেককে কাছে পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের সমস্যা তুলে ধরেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ দেখান মেডিক্যাল রিপোর্ট, কেউ আবার দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কথা জানান। সব মন দিয়ে শুনে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি। জনতার ভিড়ের মাঝেই ছিলেন সেই বৃদ্ধা, যিনি হঠাৎ এগিয়ে এসে অভিষেককে জড়িয়ে ধরেন। সেই দৃশ্য ঘিরে আবেগ ছড়িয়ে পড়ে শিবির চত্বরে। অভিষেক পরম মমতায় তাঁর নাম ও ঠিকানা নোট করার নির্দেশ দেন এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দেন।
সেবাশ্রয় শিবির পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক ফের একবার নন্দীগ্রামবাসীকে বার্তা দেন, তিনি প্রতিটি মুহূর্তে তাঁদের পাশে রয়েছেন। সেই মাটিতে দাঁড়িয়েই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, গত পাঁচ বছরে নন্দীগ্রামের জন্য আদৌ কী করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের মানুষের জন্য তাঁর কোনও কাজ নেই বলেও দাবি করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
উল্লেখ্য, সেবাশ্রয় শিবিরে প্রতিদিন সকাল ন’টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পরিষেবা দেবেন চিকিৎসকরা। প্রতিটি শিবিরে থাকবেন ৩০ জন ডাক্তার ও ৩০ জন নার্স। পাশাপাশি ফিজিওথেরাপিস্ট, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রায় ২০০ জন করে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে পারেন।



















