রাজ্য – বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতি আবারও লক্ষ্মীর ভান্ডার ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল। SIR প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকার বিতর্কের মধ্যে এই সামাজিক প্রকল্পকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ হয়ে যাবে। সেই অভিযোগের জবাব দিতে সরাসরি ময়দানে নামলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বুধবার নদিয়ার চাকদহে এক রাজনৈতিক সভায় শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ হবে না, বরং আরও বেশি অর্থ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “লক্ষ্মীর ভান্ডার আমরা আরও ভালো দেব।” নিজের বক্তব্যকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন রাজ্যের তুলনামূলক পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, ওড়িশায় মহিলাদের বছরে একবার এককালীন ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়, দিল্লিতে মাসে আড়াই হাজার, হরিয়ানায় ২১০০ টাকা, মহারাষ্ট্রে ২০০০ টাকা। এই তুলনা করে শুভেন্দু দাবি করেন, তৃণমূলের যে ভয় দেখানোর রাজনীতি চলছে, সেটি মানুষ বিশ্বাস করবেন না।
বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল প্রচার করছে বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ হয়ে যাবে। সেই গুজব ভাঙতেই ‘সংকল্প যাত্রা’-র প্রায় প্রতিটি সভায় একই বার্তা দিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
শুধু রাজ্য নেতৃত্ব নয়, কেন্দ্রীয় স্তর থেকেও নিশ্চিত বার্তা আসছে। গত মাসে কলকাতায় তিন দিনের বঙ্গ সফরে সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজেপি সরকার গঠিত হলেও বর্তমান সরকারের কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না। তিনি আরও জানান, বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারে থাকা প্রকল্পগুলোও বাস্তবায়িত হবে। তাঁর বক্তব্য, “গোটা দেশেই এটাই বিজেপির ট্র্যাক রেকর্ড।”
সব মিলিয়ে ভোটের আগে লক্ষ্মীর ভান্ডারকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়ার ঢেউ তৈরি হয়েছে। শুভেন্দু-অমিতের বার্তা স্পষ্ট—নারী কল্যাণ প্রকল্প বন্ধ হবে না, বরং উন্নত আকারে চালু থাকবে, যা তৃণমূলের রাজনীতি মোকাবিলার কৌশল হিসেবে সামনে আসছে।



















