ব্রিগেডে অনুমতি না মেলায় মুর্শিদাবাদে শক্তি প্রদর্শনের ডাক, তৃণমূল–বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ হুমায়ুন কবীরের

ব্রিগেডে অনুমতি না মেলায় মুর্শিদাবাদে শক্তি প্রদর্শনের ডাক, তৃণমূল–বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ হুমায়ুন কবীরের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


মুর্শিদাবাদ – বিধানসভা ভোট যত এগোচ্ছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান। ক্ষমতাসীন শিবিরের অন্দরের ক্ষোভ এবার প্রকাশ্যে। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে নতুন রাজনৈতিক দল গড়ে সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ব্রিগেডে সভার অনুমতি না মেলায় এবার কলকাতার বদলে মুর্শিদাবাদেই শক্তি প্রদর্শনের ঘোষণা করলেন তিনি।
তৃণমূল ছাড়ার পর সদ্য ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করেছেন হুমায়ুন কবীর। দল গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শতাধিক আসনে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন তিনি। সেই লক্ষ্যেই আগামী ১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশাল জনসভার ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে শুক্রবার সেনা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ব্রিগেডে কোনও রাজনৈতিক সভার অনুমতি দেওয়া হবে না।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ উগরে দেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, সমস্ত নিয়ম মেনেই সেনা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল এবং বৈঠকও হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুমতি না মেলায় ক্ষুব্ধ তিনি। বিকল্প হিসেবে শহিদ মিনারে সভার প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে তাতে আপত্তি জানিয়েছে তাঁর দল। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অন্য কোনও রাজনৈতিক দল ব্রিগেডে সভার অনুমতি পায় কি না, সেদিকেও নজর রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হুমায়ুন।
প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বর মাসে ব্রিগেডে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ সংগঠন সনাতনী সংস্কৃতি পরিষদের উদ্যোগে লক্ষাধিক মানুষের গীতাপাঠের আয়োজন হয়েছিল। সেই ঘটনার পরই হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেছিলেন, ১০ লক্ষ কণ্ঠে কোরাণপাঠের আয়োজন করবেন। কিন্তু সেই কর্মসূচির জন্য ব্রিগেডে অনুমতি না মেলায় বিষয়টি আরও বিতর্কের রূপ নেয় এবং এবার সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে চলে এল।
ব্রিগেড পর্বে ইতি টেনে এবার সরাসরি তৃণমূল ও বিজেপিকে নিশানা করেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর ঘোষণা, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি মুর্শিদাবাদের ৫০ বিঘা জমিতে হবে বিশাল জনসভা। দাবি করা হয়েছে, সেখানে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত হবে। নতুন দল গঠনের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলের কটাক্ষের মুখে পড়েছে জনতা উন্নয়ন পার্টি। সেই সমালোচনার জবাব দিতেই এই শক্তি প্রদর্শনের কৌশল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন নজর ১ ফেব্রুয়ারির দিকে—মুর্শিদাবাদের মাঠে হুমায়ুন কবীর কতটা বড় চমক দিতে পারেন, সেটাই দেখার।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top