হুগলি – কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন আবার থামতে চলেছে। সপ্তাহান্তে শহরের যান চলাচলে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে দ্বিতীয় হুগলি সেতু বন্ধের সিদ্ধান্ত। সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য রবিবার টানা আট ঘণ্টা বন্ধ রাখা হবে বিদ্যাসাগর সেতু। এর জেরে দক্ষিণ ও মধ্য কলকাতার সঙ্গে হাওড়ার যোগাযোগে ভরসা রাখতে হবে বিকল্প রুটের উপরই। আগেভাগেই এই বিষয়ে সতর্ক করেছে কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশ।
বিদ্যাসাগর সেতু, যা দ্বিতীয় হুগলি সেতু নামেও পরিচিত, আগামী রবিবার ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এই সময় সেতুর উপর দিয়ে কোনও ধরনের যানবাহন চলাচলের অনুমতি থাকবে না। কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সময় সেতুর স্টে কেবল, হোল্ডিং ডাউন কেবল এবং বিয়ারিং বদলানোর কাজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই সংস্কারকাজের পরিকল্পনা ছিল। সেতুর নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থেই এই সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে প্রতি রবিবার সেতু বন্ধ থাকার ঘটনায় নিত্যযাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকের বক্তব্য, রবিবার মানেই যে কাজকর্ম বন্ধ থাকে, তা নয়। বিশেষ করে হাসপাতাল, বিমানবন্দর বা জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত যাত্রীদের বিকল্প পথে দীর্ঘ ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। এতে সময় যেমন বাড়ছে, তেমনই ভোগান্তিও চরমে পৌঁছচ্ছে বলে অভিযোগ।
বিদ্যাসাগর সেতুর গুরুত্ব বোঝা যায় তার ইতিহাসের দিকেও তাকালে। ১৯৭২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এই সেতুর শিলান্যাস করেন। ১৯৭৯ সালে শুরু হয় নির্মাণকাজ এবং দীর্ঘ অপেক্ষার পর ১৯৯২ সালে সেতুর উদ্বোধন হয়। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই সেতুই কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে যান চলাচলের অন্যতম মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে চলেছে।
ফের এক রবিবার সেতু বন্ধ থাকায় শহরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থায় কী প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্র্যাফিক পুলিশের পরামর্শ, জরুরি প্রয়োজন না থাকলে ওই সময় বিদ্যাসাগর সেতু এড়িয়ে চলাই ভালো।




















