রাজ্য – বাংলায় এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়া ঘিরে আতঙ্কের ছবি আরও গাঢ় হচ্ছে। শনিবার নদিয়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায় পরপর দু’টি মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপই এই মৃত্যুর পিছনে বড় কারণ হয়ে উঠছে। শাসক দল ও বিরোধীদের একাংশও অভিযোগ তুলেছে, এসআইআর সংক্রান্ত নোটিশ ও শুনানি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও বিভ্রান্তি বাড়ছে।
নদিয়ার শান্তিপুরে শনিবার সকালে ঢাকাপাড়ার বাসিন্দা তাঁতশিল্পী সুবোধ দেবনাথ (৫৬) আত্মঘাতী হন বলে অভিযোগ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অসুস্থ স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে কোনওরকমে সংসার চালাতেন তিনি। ২০১০ সালে তাঁর পরিবারের নাম ভোটার তালিকায় উঠলেও ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকায় চলতি মাসের ৪ তারিখ তাঁর বাড়িতে এসআইআর সংক্রান্ত নোটিশ আসে। এরপর থেকেই প্রবল দুশ্চিন্তা ও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন সুবোধ। পরিবারের দাবি, তিনি বারবার বলতেন জেলে যেতে হতে পারে এবং শুনানিতে যাবেন না বলেও জানাতেন। কয়েকদিন ধরে খাওয়া-দাওয়াও প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন। শনিবার সকালে বাড়ির গ্যারেজে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।
স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও নদিয়া জেলায় এসআইআর আতঙ্কে একাধিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শান্তিপুরের এই ঘটনার পর এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। একই দিনে আরেকটি মৃত্যু হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার মৌসুনি গ্রাম পঞ্চায়েতের বালিয়াড়া এলাকায়। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে শেখ আব্দুল আজিজের (৬২)। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর শুনানির নোটিশ আসার পর থেকেই তিনি মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আব্দুল আজিজের ছয় ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে এবং ছেলেরা পরিবার নিয়ে আলাদা সংসার করছেন। পরিবারের সকলের ভোটার কার্ড থাকলেও ২০০২ সালের তালিকায় আব্দুল আজিজ, তাঁর স্ত্রী, বড় ছেলে ও বড় বৌমার নাম ছিল। অভিযোগ, শুনানিতে ছেলে, বৌমা ও নাতিনাতনি মিলিয়ে মোট ১১ জনকে ডাকা হয়েছে। এই নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন কাগজপত্র জোগাড় নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন তিনি। শুক্রবার রাতে গ্রামের বাজারে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। পরে বাড়ি ফিরে হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এই দু’টি মৃত্যুর ঘটনার পর এসআইআর প্রক্রিয়া ও তার প্রভাব নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের মানসিক নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে রাজ্য জুড়ে।




















