বিদেশ – ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি শক্তিশালী ও লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি শীঘ্রই বাস্তবায়িত হতে পারে—এই ইঙ্গিতই দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট করে জানান, দুই দেশের মধ্যে একটি ভালো চুক্তি হবেই। একই সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁকে ‘ফ্যান্টাস্টিক লিডার’ বলেও অভিহিত করেন ট্রাম্প।
ডাভোসে উপস্থিত ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। তাঁর কথায়, ভারতের সঙ্গে আমেরিকার একটি দারুণ বাণিজ্য চুক্তি হতে চলেছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে তিনি যে যথেষ্ট আশাবাদী, তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
শুধু বাণিজ্য নয়, দুই দেশের রাষ্ট্রনেতাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তিনি অত্যন্ত সম্মান করেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসেও প্রকাশ্যে মোদীর প্রশংসা করেছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তাঁকে ‘সবচেয়ে ভালো দেখতে নেতা’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যদিও ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্ক সবসময় মসৃণ ছিল না। গত বছর দুই দেশের মধ্যে চলা বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ে। এরপর ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করে আমেরিকা, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ শুল্কহারগুলির মধ্যে অন্যতম। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতকে ‘শাস্তি’ দিতেই অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল বলেও জানা যায়।
তা সত্ত্বেও গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে একাধিকবার বাণিজ্য চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে দুই দেশ। ভারত সরকার সূত্রে জানা গেছে, আলোচনা এখনও চলছেই। গত সপ্তাহে দিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর গোর জানান, উভয় পক্ষই সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালাচ্ছে এবং শীঘ্রই আবার বাণিজ্য সংক্রান্ত বৈঠক হবে। তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা, সন্ত্রাসদমন, জ্বালানি, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এই সব ক্ষেত্রেও ভারত ও আমেরিকা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্ক প্রসঙ্গে গোরের মন্তব্য, আসল বন্ধুরা মতভেদ থাকলেও শেষ পর্যন্ত সমস্যার সমাধান করে নেয়। তাঁর মতে, দুই দেশই পারস্পরিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এরই মধ্যে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত সপ্তাহে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। সেই আলোচনায় বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, পরমাণু শক্তি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারত ও আমেরিকা ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আমেরিকা থেকে আরও বেশি জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ভারত। তবে এখনও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মীমাংসার অপেক্ষায় থাকায় চূড়ান্ত চুক্তির পথে নজর রয়েছে দুই দেশের।




















