বিনোদন – শহর থেকে দূরে নীরবে বিয়ে করে ফের চর্চার কেন্দ্রে বিজেপির তারকা বিধায়ক ও অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুর থেকে সোশাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে তাঁর দ্বিতীয় দাম্পত্য জীবন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয়বার বিয়ে করার অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। হিরণের প্রথম পক্ষের স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমে এই বিয়েকে ‘বেআইনি’ বলে দাবি করে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেন।
এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার সন্ধ্যায় প্রথমবার মুখ খুললেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের নবপরিণীতা স্ত্রী ঋতিকা গিরি। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানান, গত পাঁচ বছর ধরে হিরণের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে এবং এই বিষয়টি প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতাও জানতেন। ঋতিকার দাবি, এই বিয়ে হঠাৎ নয়, অনেক আগেই তাঁদের বিয়ে হয়েছে এবং বিষয়টি গোপন ছিল না।
নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন ঋতিকা। তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ। সম্প্রতি তাঁর একটি অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতেও কিছু বক্তব্য স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলেই তিনি মুখ খুলেছেন বলে জানান।
প্রথম পক্ষের স্ত্রী অনিন্দিতার বক্তব্যের বিরোধিতা করে ঋতিকা বলেন, তাঁর বয়স সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি জানান, ডিভোর্স সংক্রান্ত আইনি নোটিস ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে। তাঁর দাবি, পাঁচ বছর ধরে তাঁরা একসঙ্গে রয়েছেন এবং তাঁর সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টও ছিল পাবলিক। কোনও কিছুই গোপন করা হয়নি। ঋতিকার প্রশ্ন, এত বছর যদি সব জানা ছিল, তাহলে তখন কেন কোনও আপত্তি তোলা হয়নি?
একসঙ্গে থাকার সময়কাল নিয়েও অনিন্দিতার বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভুল বলে দাবি করেন ঋতিকা। তিনি বলেন, ছয় মাস একসঙ্গে থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিরণ তাঁর মেয়ের সঙ্গে ছিলেন, কিছু ব্যক্তিগত কারণে, যার মধ্যে মেয়ের জন্মদিনও ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিয়ে মানসিক তৃপ্তির জন্য, অগ্নিসাক্ষী রেখে বারাণসীর মতো পবিত্র স্থানে গঙ্গা মায়ের সমানে পবিত্র বিধিতে সম্পন্ন হয়েছে।
বেআইনি বিয়ের অভিযোগ মানতে নারাজ ঋতিকা। তিনি বলেন, এটি কোনও জাঁকজমকপূর্ণ বা প্রদর্শনমূলক বিয়ে ছিল না। ভক্তি, বিশ্বাস ও পবিত্রতার মধ্য দিয়েই এই বিয়ে হয়েছে। তাঁর পরনের ওড়না কাশী বিশ্বনাথ ধাম থেকে আশীর্বাদস্বরূপ পাওয়া এবং বিয়ের সমস্ত সামগ্রী শ্রীধাম বৃন্দাবন থেকে আনা। মায়ের সিঁদুরও ব্যবহৃত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শেষে প্রথম পক্ষের স্ত্রীকে সরাসরি আইনি পথে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন ঋতিকা। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, যদি এই বিয়ে বেআইনি বলে মনে হয়, তাহলে আইনি পদক্ষেপ করাই হোক পরবর্তী পথ।




















