সরকারি হাসপাতালের বেডের তথ্য এবার অনলাইনে, ৩০ দিনের মধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির নির্দেশ হাই কোর্টের

সরকারি হাসপাতালের বেডের তথ্য এবার অনলাইনে, ৩০ দিনের মধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির নির্দেশ হাই কোর্টের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা – রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে কোন বিভাগে কত বেড ফাঁকা রয়েছে, সেই তথ্য এবার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। রোগী ও তাঁদের পরিবারের সুবিধার কথা মাথায় রেখে একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। সম্প্রতি হাসপাতালগুলিতে রেফার রোগের অভিযোগ তুলে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়, সেই মামলার শুনানিতেই এই নির্দেশ দেয় আদালত।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারকে একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। ওই ওয়েবসাইটে রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগে কত বেড রয়েছে এবং কতগুলি বেড খালি আছে, তার বিস্তারিত তথ্য নিয়মিত আপডেট করতে হবে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তাঁর পরিবার যেন ওই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জানতে পারেন, কোন হাসপাতালে কোন বিভাগের বেড খালি রয়েছে। এতে অকারণে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরে বেড়ানোর ঝামেলা কমবে এবং রোগীর চিকিৎসা পেতে দেরি হবে না বলে মত আদালতের।
এই প্রসঙ্গে পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর জানা যায় সেখানে বেড খালি নেই। এরপর তাঁকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেখানেও গিয়ে একই সমস্যার মুখে পড়তে হয়। বারবার স্থানান্তরের ফলে রোগীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। এই সংকট কাটাতেই একটি কার্যকর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সঞ্জিত জানা নামে এক ব্যক্তি এই বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। তাঁর আবেদনে বলা হয়েছিল, রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে কত শয্যা ফাঁকা রয়েছে এবং তারা স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধা দেয় কি না, সেই তথ্য হাসপাতালের ওয়েবসাইট ও ডিসপ্লে বোর্ডে দেখানোর ব্যবস্থা করা হোক।
মামলাকারীর অভিযোগ, ২০২১ সালে তাঁর শাশুড়ির অসুস্থতার সময় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করাতে গিয়ে জানতে পারেন, সেখানে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ করা হয় না। ফলে চরম সমস্যায় পড়তে হয় তাঁকে। সেই অভিজ্ঞতার পরেই তিনি জনস্বার্থে আদালতের দ্বারস্থ হন।
এই মামলার প্রেক্ষিতেই সরকারি হাসপাতালগুলিতে বেড সংক্রান্ত স্বচ্ছতা আনতে এবং রোগী পরিষেবাকে আরও সহজ ও মানবিক করতে হাই কোর্টের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top