রাজ্য – ভোরের আলো ফোটার আগেই শঙ্খ আর কাঁসরের যুগলবন্দিতে মুখর হয়ে উঠেছে বাংলা। কুয়াশায় ঢাকা বসন্ত পঞ্চমীর সকালে তিথি মেনে বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে বাগদেবীর আরাধনা। একদিকে সরস্বতী পুজো, অন্যদিকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী—একই দিনে দুই উৎসবের আবহে ছুটির আমেজে মেতেছে রাজ্য।
সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে গিয়েছে সরস্বতী পুজোর রূপ। নয়-এর দশকের ঘরোয়া পুজোর নস্টালজিয়া আজ জেন-জির কাছে অনেকটাই বদলে গিয়ে বাঙালির ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’-র নামান্তরে পরিণত হয়েছে। সকাল বাড়তেই অনভ্যস্ত শাড়ির আঁচল, আর বুটিক ডিজাইনের সাদা-হলুদ পাঞ্জাবিতে সেজে উঠেছে শহর-গ্রাম। শুক্রবারের সকাল যেন অন্য রকম রঙিন।
একসময় কুল, খই, বাতাসা আর খিচুড়ি-লাবড়ার স্বাদেই সীমাবদ্ধ ছিল সরস্বতী পুজো। আজ তা অনেকটাই অতীতের স্মৃতিতে জায়গা করে নিয়েছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ঝকঝকে, আধুনিক সাজে পুজো পেলেও সরস্বতী বন্দনার মন্ত্রধ্বনি আর অঞ্জলি দেওয়ার ভিড় আজও মনে করিয়ে দেয়, ঐতিহ্য একেবারে হারিয়ে যায়নি।
হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী এ বছর বসন্ত পঞ্চমীর তিথি শুরু হয়েছে রাত ২টা ২৮ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৪ জানুয়ারি ভোর ১টা ৪৬ মিনিটে। ফলে কোনও তাড়াহুড়ো ছাড়াই দিনভর পুজো দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ভক্তরা। সকাল থেকেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের ভিড় চোখে পড়ছে।
একই সঙ্গে নেতাজি জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ক্লাব ও বিভিন্ন সংগঠনে পতাকা উত্তোলনের তোড়জোড় চলছে। কারও পরিকল্পনায় দুপুরের খাওয়াদাওয়ার পর সিনেমা দেখা, কেউ আবার বিদ্যার দেবীর আরাধনা সেরে পাড়ি দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার পথে। সব মিলিয়ে ছুটির মুডে উৎসবের রঙে রঙিন বঙ্গবাসী।




















