দক্ষিন 24 পরগণা – সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আগেভাগেই সতর্ক হলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার ক্যাম্পাসের প্রায় দশটি জায়গায় সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। পুজোর সময়ে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা একদিন আগেই কলকাতা হাইকোর্টে জানিয়েছিল রাজ্য সরকার।
এই প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, পুজোর সময় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে যাতে কোনও ধরনের গোলমাল না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে কর্তৃপক্ষকে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে উদ্যোগী হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এই পরিস্থিতিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের কাছে পুলিশ মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাদবপুর থানাকে এ বিষয়ে চিঠি লিখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডল। একই সঙ্গে তিনি পড়ুয়াদের কাছে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে পুজো পরিচালনার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছিল, অতীতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে একাধিকবার অপ্রীতিকর ঘটনার নজির রয়েছে। সেই কারণেই আদালতের হস্তক্ষেপ চায় রাজ্য। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, পুজোর সময়ে যাতে কোনও অশান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এবং প্রয়োজনে যাদবপুর থানার পুলিশ সহযোগিতা করবে।
এরপরই যাদবপুর থানাকে চিঠি লেখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার। চিঠিতে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে ৪ নম্বর গেটের বাইরে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও, ক্যাম্পাসের ভেতরে যেন পুলিশ প্রবেশ না করে, সেই আর্জিও জানানো হয়েছে।
এদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ-সহ একাধিক ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে সরস্বতী পুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সব পুজোকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও ধরনের অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা না হয়, সে বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, গত বছর যোগেশ চন্দ্র চৌধুরী ল কলেজে সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশি প্রহরায় পুজো সম্পন্ন হয়। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।




















