রাজ্য – এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়ালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন, শুধুমাত্র চিঠি চালাচালি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না। প্রয়োজন হলে কমিশনকে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই একাধিক অস্বস্তিকর ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও বিএলও বা সাধারণ ভোটারের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, আবার কোথাও শুনানি চলাকালীন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে পরপর পাঁচটি চিঠি দিয়ে একাধিক আপত্তি ও অভিযোগ তুলেছেন। তবে বিজেপির দাবি, গোটা পরিস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসেরই ষড়যন্ত্র। মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, আর নির্বাচন কমিশন পাল্টা চিঠিতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে কার্যকর পদক্ষেপ করছে না।
এই আবহেই সংবাদমাধ্যমের সামনে সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মনে করিয়ে দেন, সংবিধানের ৩২৪ থেকে ৩২৯ অনুচ্ছেদে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, এত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কমিশন কেন এত নরম অবস্থান নিচ্ছে। শুভেন্দুর কথায়, চিঠিতে কিছু হবে না, মাঠে নেমে অ্যাকশন নিতে হবে। না হলে জনগণের হয়ে বিজেপি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে। তিনি আরও বলেন, এতদিন তৃণমূল বা নির্বাচন কমিশন আদালতে গেছে, এবার বিজেপিও আদালতের দরজা খুলবে।
বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতে দেরি করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের বক্তব্য, এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ নিয়ে নির্দেশ দিয়েছে, তাতে বিজেপির অবস্থানই দুর্বল হয়েছে। সেই কারণেই এ ধরনের আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা হচ্ছে বলে দাবি তৃণমূলের।
তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই এক কোটির বেশি মানুষকে নোটিস পাঠিয়েছে। শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তাঁর কটাক্ষ, এটাকেই যদি ‘নরম লাইন’ বলা হয়, তাহলে কড়া হলে বাংলায় কার্যত মড়ক লেগে যাবে।
উল্লেখ্য, সোমবার সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়, তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’-র সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং যাঁরা নথি জমা দেবেন, তাঁদের রসিদ দিতে হবে। এই নির্দেশের পরই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন দু’পক্ষই ‘সুপ্রিম কোর্টের থাপ্পড় খেয়েছে’। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, আদালতের মতোই আসন্ন এপ্রিলের ভোটেও জয় পাবে তৃণমূল।
অভিষেকের এই মন্তব্যের জবাবে নাম না করেই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আদালতের নির্দেশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আপলোডই হয়নি, তার আগেই জয় ঘোষণা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে তৃণমূল মিথ্যে প্রচার করছে এবং বাংলার মানুষই শেষ পর্যন্ত তার উপযুক্ত জবাব দেবে।




















