কলকাতা -কিছুদিন আগেই হাইকোর্টের নির্দেশে বিধায়ক পদ খারিজ হয়েছিল তাঁর। পরে সুপ্রিম কোর্ট মানবিক কারণে সেই বিধায়ক পদ ফিরিয়ে দিলেও প্রশ্ন উঠছে—পদ থাকলেই বা কী, আদৌ কি আজ রাজনীতির ময়দানে প্রাসঙ্গিক মুকুল রায়? যাঁর তুখোড় রাজনৈতিক বুদ্ধিকে একসময় ‘চাণক্য’-র সঙ্গে তুলনা করা হত, আজ হয়তো সেই ছক বা স্ট্র্যাটেজির অনেকটাই আর মনে রাখতে পারেন না তিনি।
শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্নের সাক্ষী মুকুল রায় আজ কার্যত রাজনীতির আড়ালে। হাসপাতালের বেডে একা শুয়ে কাটছে তাঁর দিন। জন্মদিনে সেই নিঃসঙ্গ বাস্তবতাই তুলে ধরলেন তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায়। একসময় যিনি রাজ্য রাজনীতির অন্যতম ক্ষমতাশালী নেতা ছিলেন, আজ তাঁকে যেন ভুলতে বসেছে রাজনৈতিক মহল।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন মুকুল রায়। বিজেপির টিকিটে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে জয়ীও হন তিনি। পরে তৃণমূল ভবনে গিয়ে ফের যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে। খুব বেশি দিনের কথা নয় এসব। অথচ আরেকটি বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন হলেও রাজনৈতিক আলোচনায় মুকুল রায়ের নাম প্রায় অনুপস্থিত।
২৩ জানুয়ারি ছিল মুকুল রায়ের জন্মদিন। সেই দিনই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্ট করেন ছেলে শুভ্রাংশু। তিনি লেখেন, “Many Many Happy Returns Of The Day—লিখতে পারছি না, কারণ তুমি যে অসহনীয় কষ্ট ভোগ করছ, তা আর চোখে দেখা যায় না।” বাবাকে ‘রিয়েল হিরো’ বলে সম্বোধন করে শুভ্রাংশু জানান, সমাজ গড়ার ভাবনা তিনি বাবার কাছ থেকেই শিখেছেন।
একসময় হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে নিয়ে সংগঠন সামলেছেন মুকুল রায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে তিনি ছিলেন ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’। আজ যে পদে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন, একসময় সেই জায়গা থেকেই দলের সংগঠন দেখভাল করতেন মুকুল। ২০১৫ সালে সবকিছু বদলে গেলেও রাজনৈতিক সক্রিয়তা তখনও কমেনি তাঁর। বিজেপিতে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পদও পান তিনি।
তাঁর হাত ধরেই যশ-শ্রাবন্তীর মতো তারকারা বিজেপিতে যোগ দেন। আজ সেই সময় যেন সুদূর অতীত। সেই অতীতের কথাই মনে করিয়ে দিয়ে শুভ্রাংশু লিখেছেন, “এক বেসরকারি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে একা একা কষ্ট পাচ্ছ। অথচ এই দিনেই একসময় হাজার হাজার মানুষ তোমার চারপাশে ঘিরে থাকত। তাঁদের অনেকেই তোমার দ্বারা উপকৃত, আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু কালের নিয়মে তোমাকেই ভুলে গিয়েছে।”
কয়েকদিন আগেই অসুস্থ মুকুল রায়ের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেই ছবি দেখে অনেকেই চমকে যান। তাঁর শারীরিক অবস্থা যে গুরুতর, তা স্পষ্ট। রাজনীতির উত্থান-পতনের এই কঠিন বাস্তবতায় আজ নিঃসঙ্গ এক প্রবীণ নেতার নাম—মুকুল রায়।




















