রাজ্য – চলতি বছরেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। তবে ভোটের আগেই এসআইআর (SIR) শুনানি ঘিরে চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। এই আবহে সামনে এল বড় খবর। জেলায় জেলায় দ্রুত এসআইআর শুনানির কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি মার্চের প্রথম দিকেই বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে চলেছে কমিশন?
সূত্রের খবর, নো-ম্যাপ ভোটারদের—যাঁদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের বা আত্মীয়ের নাম নেই—শুনানিতে ইতিমধ্যেই অনেকটা সময় নষ্ট হয়েছে। তাই আর বিলম্ব না করতেই জেলাগুলিকে দ্রুত শুনানি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের কড়া বার্তা, সন্দেহজনক ভোটারদের শুনানির ক্ষেত্রে আর অত সময় ব্যয় করা যাবে না। দ্রুততার সঙ্গে এই প্রক্রিয়া শেষ করার গাইডলাইন তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DEO)। পরিস্থিতি অনুযায়ী কীভাবে কাজ শেষ করা যাবে, তা ঠিক করতে বলা হয়েছে তাঁদেরই।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, মার্চের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনি নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই কারণেই দ্রুত এসআইআর শুনানি শেষ করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে চাইছে কমিশন। শনিবারের মধ্যেই লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি তালিকায় থাকা প্রত্যেকের নাম পঞ্চায়েত ও ওয়ার্ড অফিসগুলিতে টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পর ওই তালিকায় থাকা ভোটারদের আপত্তি জানানোর জন্য ১০ দিন সময় দিতে হবে।
কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, যদি এই ১০ দিনের আপত্তির সময় দেওয়া হয়, তাহলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে সময় পিছিয়ে যেতে পারে আরও প্রায় দু’সপ্তাহ। এই বিলম্বে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণায় সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেই কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের অন্দরের হিসেব বলছে, মার্চের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে যদি পশ্চিমবঙ্গে ভোট ঘোষণা না করা যায়, তাহলে আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। আগামী ৫ মে-র মধ্যে রাজ্যে পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতেই হবে। আইন অনুযায়ী, নির্বাচন ঘোষণার দিন থেকে ভোটের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৩ দিন এবং সর্বনিম্ন ২৮ দিনের ব্যবধান থাকা বাধ্যতামূলক। ফলে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলে আইনি ডেডলাইন মিস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণেই এসআইআর শুনানি নিয়ে আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করতে চাইছে না কমিশন।




















