রাজ্য – ২০২৭ সালের জনগণনার প্রথম পর্ব চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা। সেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে গত ৭ জানুয়ারি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। নিয়ম অনুযায়ী, এই বিজ্ঞপ্তি প্রতিটি রাজ্যকে সময়সীমা ও বিস্তারিত নির্দেশিকা সহ নতুন করে জারি করার কথা। দেশের অধিকাংশ রাজ্য সেই কাজ সেরে ফেললেও এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ জনগণনা সংক্রান্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, জনগণনাকে কেন্দ্র করেও কি ফের সংঘাতে জড়াতে চলেছে কেন্দ্র ও রাজ্য।
শুক্রবার দিল্লিতে সব রাজ্যের মুখ্যসচিবদের নিয়ে একটি বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিকরা। ওই বৈঠকে জনগণনা সংক্রান্ত নোডাল অফিসার ও সেনসাস ডিরেক্টররাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে এখনও বিজ্ঞপ্তি জারি না হওয়া নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে। রাজ্যের অভিযোগ, কেন্দ্র একাধিক প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে। এই আবহে জনগণনাও কি আরও একটি সংঘাতের বিষয় হয়ে উঠছে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, বিষয়টি শুধুই প্রশাসনিক নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভোট-বাস্তবতা। স্বাভাবিক নিয়মে ভোট হলে এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচটি রাজ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই সময় কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণনার তথ্য সংগ্রহ করলে আপত্তি তুলতে পারে রাজ্য। পাশাপাশি, এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর কাজ চলছে। তার ফলে রাজ্য সরকারের বিপুল সংখ্যক কর্মী ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত কাজের চাপে রয়েছেন।
এছাড়াও সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় রাজ্য প্রশাসনের কর্মীদের বড় অংশ ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। এই পরিস্থিতিতে জনগণনার জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত লোকবল পাওয়া নিয়েও প্রশাসনিক স্তরে সংশয় তৈরি হয়েছে। ফলে এখনই জনগণনার বিজ্ঞপ্তি জারি করতে রাজ্য যে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়, এমন ধারণাও উঠে আসছে।
যদিও কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে যে কোনও সময় টানা ৩০ দিন ধরে বাড়ি বাড়ি জনগণনার তথ্য সংগ্রহ করা যাবে। কোন রাজ্যে কবে এই কাজ হবে, সেই সিদ্ধান্ত স্থানীয় প্রশাসনের উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সেই অর্থে ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে নির্বাচন মিটে যাওয়ার পরেও জনগণনার কাজ করার সুযোগ রয়েছে। রাজ্য সরকার চাইলে তেমন পরিকল্পনাও নিতে পারে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনও বলছে, পশ্চিমবঙ্গ জনগণনা সংক্রান্ত রাজ্যস্তরের বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। ফলে এই বিষয়টি শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে মেটে, নাকি কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের নতুন অধ্যায় তৈরি করে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।




















