দিল্লী – দিল্লির দূষণ নতুন কোনও সমস্যা নয়। শীত পড়লেই কুয়াশা ও ধোঁয়াশায় ঢেকে যায় রাজধানী, দিনের বেশিরভাগ সময়ই কমে যায় দৃশ্যমানতা। শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভোগেন বহু মানুষ। দূষণ কবে কমবে, সেই প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই থেকেই গিয়েছে। তবে শনিবার রাতের বৃষ্টি ও পরবর্তী মেঘলা আকাশে অবশেষে কিছুটা স্বস্তি পেল রাজধানী।
শনিবার রাতের বৃষ্টির পর রবিবার দিল্লির বাতাস অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে ওঠে। গত চার বছরে এই প্রথম জানুয়ারি মাসে সবচেয়ে পরিষ্কার বাতাসের সাক্ষী হল দিল্লি। দীর্ঘদিন ধরে দূষণের চাপ সহ্য করার পর রবিবার সকালে সাধারণ মানুষ খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।
রবিবার সকাল ৯টায় দিল্লির ২৪ ঘণ্টার গড় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স নেমে আসে ১৫০-এ, যা ‘মডারেট’ বা সহনীয় পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। শনিবার সন্ধ্যায় যেখানে AQI ছিল ১৯৩, সেখানে রাতের বৃষ্টিতে দূষণ অনেকটাই কমে যায়। জানুয়ারি মাসে এর চেয়ে ভালো বায়ুগুণ শেষবার দেখা গিয়েছিল ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি, যখন AQI ছিল মাত্র ৬৯। টানা ১০৩ দিন, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে তিন মাস পর দিল্লির বাতাস আবার সহনীয় পর্যায়ে ফিরল।
আবহাওয়া দফতরের মতে, রাতের বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ এবং উত্তর দিকের ঠান্ডা হাওয়ার জেরে বাতাসে জমে থাকা দূষণ ছত্রভঙ্গ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে শহরের বহু এলাকায় দৃশ্যমানতাও আগের তুলনায় পরিষ্কার হয়েছে। যদিও ঠান্ডা কিছুটা বেড়েছে, তবু দূষণ কমায় স্বস্তি মিলেছে সাধারণ মানুষের।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রবিবার দিল্লি-এনসিআরের আকাশ থাকবে আংশিক মেঘলা। ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইবে। রাত ও ভোরের দিকে নিচু এলাকায় হালকা কুয়াশা দেখা যেতে পারে। রবিবার দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় এক ডিগ্রি কম। হিমালয়ে তুষারপাতের প্রভাবে ২৬ জানুয়ারি রাতেও তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকতে পারে।
আবহবিদদের মতে, এই ঠান্ডাজনিত পরিস্থিতি খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। ২৭ জানুয়ারি থেকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢুকে পড়লে বাতাসের দিক বদলাতে পারে এবং তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার রাজধানীতে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে হলুদ সতর্কতাও জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।
এদিকে, বায়ুগুণে উন্নতির কারণে ২২ জানুয়ারি থেকে GRAP-এর তৃতীয় ধাপের কঠোর বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট। এই ধাপে নির্মাণকাজে কড়াকড়ি এবং কিছু ডিজেল গাড়ির উপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, শীতের আবহাওয়া দ্রুত বদলে যেতে পারে, ফলে দূষণের মাত্রা আবার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাই বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ রাখা, শিল্পাঞ্চলের নির্গমন নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহনের দূষণ কমানোর মতো GRAP-এর প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ বহাল থাকছে। দিল্লির বায়ুগুণ ফের খারাপের দিকে না যায়, সে জন্য নিয়মিত নজরদারির আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।




















