রাজ্য – রাজ্যে শুরু হওয়া বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় এবার শুনানির নোটিস পেলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা এবং শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেলের নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। বিষয়টি সামনে আসে দেবাংশুর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে। নোটিস অনুযায়ী, রবিবার দুপুর ২টোয় উত্তর কলকাতার কেশব অ্যাকাডেমিতে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে শশী পাঁজাকে।
শুনানির নোটিস পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শশী পাঁজা। তাঁর দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম স্পষ্টভাবেই ছিল এবং এনুমারেশন ফর্মে সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য তিনি জমা দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও শুনানিতে ডাকা হওয়ায় তিনি বিস্মিত। শশী পাঁজার বক্তব্য, এটি কোনও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নয়, বরং অ্যাপের ত্রুটির কারণেই ২০০২ সালের তালিকায় তাঁর নাম প্রতিফলিত হচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমার যখন ডাক পড়েছে, তখন সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হতে পারে, সেটা ভেবেই অবাক হচ্ছি। এটা হাস্যকর।” তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, একজন সাধারণ নাগরিকের মতোই তিনি নির্ধারিত সময়ে শুনানিতে হাজিরা দেবেন।
এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেলের নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যও এসআইআর শুনানির নোটিস পেয়েছেন। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। উল্লেখযোগ্যভাবে, এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আগেই গান বেঁধেছিলেন দেবাংশু, আর এবার সেই প্রক্রিয়াতেই তাঁর নাম উঠে এল শুনানির তালিকায়।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া, যার মূল উদ্দেশ্য ভোটার তালিকাকে ত্রুটিমুক্ত করা। এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার পর বর্তমানে চলছে শুনানি পর্ব। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি, ম্যাপিং সমস্যা ও অন্যান্য কারিগরি ত্রুটির কারণে বহু ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী, অভিনেতা-সাংসদ দেবের মতো একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে এই তালিকায়। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার নাম।
শশী পাঁজার অভিযোগ, কমিশন হুড়োহুড়ি করে কাজ করাতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিএলও ও সফটওয়্যার ব্যবস্থায় নানা গলদ দেখা দিচ্ছে। তাঁর মতে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অ্যাপে তা না দেখানো এই ত্রুটিরই ফল। কমিশন হয়তো আলাদা করে বিষয়টি সংশোধনের চেষ্টা করছে, তবে তিনি কোনও বিশেষ সুবিধা না নিয়ে সাধারণ মানুষের মতোই শুনানিতে অংশ নেবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় নোটিস পেয়েছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও ভারতরত্ন অমর্ত্য সেন। বিদেশে থাকায় ৯২ বছর বয়সি এই প্রবীণ অধ্যাপক সশরীরে হাজির থাকতে না পারলেও তাঁর বাড়িতেই শুনানি হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ভাই। এই প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বস্টন থেকে সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন বলেন, পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, তাতে অযথা তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো সংবেদনশীল কাজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এবং পর্যাপ্ত সময় নিয়ে করা উচিত। মানুষকে নিজেকে ভোটার হিসেবে প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট সময় না দিলে তা ভোটারদের প্রতি অন্যায় এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের পক্ষেও ক্ষতিকর হতে পারে।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে পরিচালনা করা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। শশী পাঁজা ও দেবাংশু ভট্টাচার্যের শুনানির নোটিস পাওয়া সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করল।




















