দিল্লী – রাত পোহালেই ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস। এই বিশেষ দিনে সারা দেশের নজর থাকবে দিল্লির কর্তব্য পথে, যেখানে একদিকে যেমন ভারতের সামরিক শক্তির প্রদর্শন হবে, তেমনই ফুটে উঠবে দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের ছবি। সোমবার কর্তব্য পথে উপস্থিত থাকবেন দেশ-বিদেশের বহু বিশিষ্ট অতিথি।
এবছর প্রজাতন্ত্র দিবসের সঙ্গে বিশেষ তাৎপর্য যুক্ত হয়েছে জাতীয় গান ‘বন্দেমাতরম’-এর দেড়শো বছর পূর্তি। বন্দেমাতরমের সার্ধশতবর্ষের পাশাপাশি আত্মনির্ভর ভারতের অগ্রগতি ও সামরিক ক্ষমতার অনন্য প্রদর্শনী দেখা যাবে কর্তব্য পথে। বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন।
রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল পর্যন্ত বিস্তৃত কর্তব্য পথ সুসজ্জিত করা হয়েছে। এখানে একসঙ্গে ধরা পড়বে ‘বন্দেমাতরম’-এর ১৫০ বছরের ঐতিহ্য, ভারতের অভূতপূর্ব উন্নয়নযাত্রা, সামরিক শক্তি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান, যা প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলবে।
অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে গিয়ে শহিদদের শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর তিনি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা কর্তব্য পথের স্যালুটিং ডায়াসে উপস্থিত হবেন। রাষ্ট্রপতি, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ঐতিহ্যবাহী ট্র্যাডিশনাল বাগিতে করে আসবেন, যাঁদের এসকর্ট করবে ভারতের প্রাচীনতম রেজিমেন্ট প্রেসিডেন্টস বডিগার্ড।
প্যারেডের শুরুতেই ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ থিমে ১০০ জন সাংস্কৃতিক শিল্পী বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐক্য তুলে ধরবেন। এরপর চারটি Mi-17 1V হেলিকপ্টার থেকে ফুলের পাপড়ি বর্ষণ করা হবে। প্যারেডে অংশ নেবেন দেশের সর্বোচ্চ বীরত্ব পুরস্কারপ্রাপ্ত পরম বীর চক্র ও অশোক চক্র বিজয়ীরা, যা বীরত্ব ও ত্যাগের প্রতীক হয়ে উঠবে।
এরপর শুরু হবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক শক্তি প্রদর্শন। এই প্রথমবার ফেজড ব্যাটল অ্যারে ফরম্যাটে সেনাবাহিনীর সামরিক ক্ষমতা তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি প্রদর্শিত হবে অপারেশন ‘সিন্দুর’-এর প্রতীকী চিত্র, যেখানে যৌথ বাহিনীর শক্তি ও সমন্বয় ফুটে উঠবে।
ভারতীয় নৌবাহিনীর ট্যাবলোতে তুলে ধরা হবে ‘শক্তিশালী ভারতের জন্য শক্তিশালী নৌবাহিনী’ থিম। সেখানে প্রাচীন সমুদ্রযান থেকে শুরু করে INS বিক্রান্ত, স্টেলথ ফ্রিগেট, সাবমেরিন এবং কমিউনিকেশন স্যাটেলাইটের মডেল প্রদর্শিত হবে। ভারতীয় বায়ুসেনার কন্টিনজেন্টের সঙ্গে আকাশে নজরকাড়া রাফাল, সুখোই-৩০, মিগ-২৯ ও জাগুয়ার বিমানের ফ্লাই-পাস্ট অনুষ্ঠিত হবে।
প্যারেডে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে নারীশক্তি। সব-মহিলা ভারতীয় কোস্ট গার্ড কন্টিনজেন্ট, বিভিন্ন আধাসামরিক বাহিনী, দিল্লি পুলিশ, এনসিসি ক্যাডেট এবং MY BHARAT স্বেচ্ছাসেবকরাও অংশ নেবেন। জাতীয় গানের ১৫০ বছর উপলক্ষে কর্তব্য পথে থাকবে বিশেষ শিল্পকর্ম, ভিডিও প্রদর্শনী, দেশজুড়ে ব্যান্ড পারফরম্যান্স এবং মাইগভ ও মাই ভারত প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা।
কর্তব্য পথে বিভিন্ন রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের মোট ৩০টি ট্যাবলো প্রদর্শিত হবে। এবছর বাংলা থেকে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলা’ শীর্ষক ট্যাবলো। প্যারেডের শেষে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, আকাশে বেলুন ও ‘বন্দেমাতরম’ লেখা ব্যানার ওড়ানোর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।




















