বিবিসি-র প্রাক্তন সাংবাদিক মার্ক টুলির প্রয়াণ, অবসান হল এক ঐতিহাসিক সাংবাদিকতার অধ্যায়

বিবিসি-র প্রাক্তন সাংবাদিক মার্ক টুলির প্রয়াণ, অবসান হল এক ঐতিহাসিক সাংবাদিকতার অধ্যায়

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – বিবিসি-র প্রাক্তন সাংবাদিক মার্ক টুলির প্রয়াণে অবসান হল একটি যুগের। স্বাধীনতা-উত্তর ভারত থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাস তাঁর লেখনীতে ধরা পড়েছে। রবিবার দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৯০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত হলেও কলকাতায় জন্মগ্রহণ করা মার্ক টুলি ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে ছিলেন। টালিগঞ্জে জন্ম তাঁর, শৈশব কেটেছে দার্জিলিংয়ের একটি স্কুলে। পরে পড়াশোনার জন্য ইংল্যান্ডে গেলেও ভারতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও ছিন্ন হয়নি।
১৯৬৪ সালে বিবিসি-তে সাংবাদিকতা শুরু করার পর ১৯৬৫ সালেই তিনি দিল্লিতে ফিরে আসেন। এরপর টানা ২২ বছর দিল্লিতে থেকে বিবিসি-র সাংবাদিক হিসেবে ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অধ্যায় কভার করেন মার্ক টুলি। তাঁর রিপোর্টিংয়ে উঠে এসেছে রাজনীতি, সমাজ, ধর্ম এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তব ছবি।
ইন্দিরা গান্ধীর আমলে অপারেশন ব্লু স্টার কভার করার কারণে তাঁকে এক সময় দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি আবার ভারতে ফিরে আসেন। ভোপাল গ্যাস বিপর্যয়, বাবরি মসজিদ ধ্বংস—ভারতের ইতিহাসের এমন বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন তিনি এবং সেগুলি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরেছিলেন নিজের সাংবাদিকতার মাধ্যমে।
সম্প্রতি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন মার্ক টুলি। গত ২১ জানুয়ারি দিল্লির সাকেতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। নেফ্রোলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার তাঁর মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
মার্ক টুলির প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোকবার্তায় তিনি জানান, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করা এই প্রখ্যাত সাংবাদিক বিবিসি-র হয়ে ভারতের খবর বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন। ভারতের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার জন্য ভারতও তাঁকে আপন করে নিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা তাঁকে আমাদেরই একজন মনে করতাম।” তাঁর পরিবার, বন্ধু এবং অসংখ্য অনুরাগীর প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top