রাজ্য – শিয়রে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নবান্নে নানা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠক থেকেই রাজ্য সরকারের অভিমুখ স্পষ্ট করলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরণ করিয়ে দেন, বামফ্রন্ট সরকারের জমানায় ৭৫ লক্ষ কর্মদিবস নষ্ট হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসে একদিনও কর্মদিবস নষ্ট করেনি। বাংলায় এখন আর বনধ হয় না, যা শিল্প বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
আজ নবান্ন সভাঘর থেকে ওয়াটগঞ্জের দইঘাটে নতুন শ্মশানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নবনির্মিত সিরিটি মহাশ্মশানের ভার্চুয়াল উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজ্যের শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের বার্তাও স্পষ্ট করা হলো। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি বনধের বিরোধী। আমি বনধ করতে দেব না। পরিকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ চলছে। পুরুলিয়া জেলা থেকেও বদলের ছবি স্পষ্ট। এখন শিল্পপতিদের গন্তব্য বাংলা। একের পর এক কারখানা হচ্ছে। বহু শিল্পপতি এখানে শিল্প স্থাপনের আগ্রহ দেখাচ্ছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ছ’টি করিডর তৈরি হচ্ছে।”
মুখ্যমন্ত্রী বামফ্রন্ট ও বিজেপির কাজ নিয়ে সরব হলেও সব কিছু সত্য নয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “যাঁরা বলছে বাংলা থেকে শিল্প চলে যাচ্ছে, তাঁরা ভুল বলছেন। হাওড়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে উন্নয়নের ছবি চোখে পড়বে। কত শিল্প সংস্থা এসেছে, কত কাজ হয়েছে। কোনও সমস্যা হলে মুখ্যসচিব, শিল্পসচিব, হিডকো-সবাই আছেন। জীবন শান্তিপূর্ণ হলে, মাথা ঠান্ডা রাখলে, পরিবার ঠিক থাকলে ব্যবসা বাড়বে। পরবর্তী প্রজন্মকেও প্রস্তুত করতে হবে।”
ধর্মীয় বিভাজন নিয়েও কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক দল উল্লেখ না করলেও তিনি বলেন, “আজ যারা হিন্দু-মুসলমান করছে, আমরা সবাই ভারতীয়। এখানে মাইনরিটি আছে, জনজাতি আছে। কেউ কারও কথায় ইন্টারফেয়ার করবে না। কেউ দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করলে রুখে দেব। শান্তি রক্ষা করাই আমার কাজ। বাংলা আপনাদের জায়গা দেবে। মন্দির, মসজিদ যেখানে অনুরোধ এসেছে, সেখানে কাজ হয়েছে। আপনারা আমাকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন, আমি সেটি করেছি। আরও অনেক কাজ হবে, অপেক্ষা করুন।”




















