মালদা – ফের মালদায় এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। মালদার মানিকচক ব্লকের নুরপুর অঞ্চলের নিচুর তিওড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা শেখ সরিফুল (৫৫)-এর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, এসআইআর (Special Intensive Revision) সংক্রান্ত আতঙ্ক থেকেই ওই প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোররাতে বাড়িতেই অসুস্থ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শেখ সরিফুলের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল। তবে নাম সংক্রান্ত লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে তাঁর দুই ছেলে এসআইআর শুনানির নোটিশ পান। ছেলেদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে—এই আশঙ্কায় দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক চাপে ভুগছিলেন তিনি। মঙ্গলবারই দুই ছেলের শুনানির দিন ছিল, কিন্তু তার আগেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবার স্পষ্টভাবে অভিযোগ তুলেছে, এসআইআর আতঙ্কই এই মৃত্যুর কারণ।
এদিকে শীতলকুচি ব্লকের ছোট শালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অটিয়াবাড়ি ২৪৯ নম্বর বুথ এলাকায় এসআইআর নোটিশ পাওয়ার পর আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ৩০ বছরের বুলু মিয়া জমিতে দেওয়ার বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। বর্তমানে তিনি মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নাম বিভ্রাটের কারণে দুই ভাই দুলু মিয়া ও বুলু মিয়ার নামে শুনানির নোটিশ আসতেই আতঙ্কে এই ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে দিনহাটা দুই ব্লকের নাজিরহাট এলাকার শিকারপুরের ৭/২১ নম্বর বুথে এসআইআর তালিকায় নাম না থাকায় আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে বেলাল মিয়া নামে এক ব্যক্তির। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এসআইআর তালিকায় নাম না থাকায় মানসিক চাপে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, বিজেপি বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি করছে এবং লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে সবচেয়ে বেশি হিন্দুদেরই টার্গেট করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি বাঙালিদের হিন্দু হিসেবে মানতে চায় না এবং ধর্মের নামে মানুষকে ভাগ করার চেষ্টা করছে।




















