আনন্দপুর নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদেহ শনাক্তকরণ, প্রশাসন এবং রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ

আনন্দপুর নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদেহ শনাক্তকরণ, প্রশাসন এবং রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা – আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলির পরিচয় নিশ্চিত করতে এবার ডিএনএ পরীক্ষার পথে হাঁটছে প্রশাসন। পুলিশ ও প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার থেকেই ডিএনএ ম্যাপিং প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। আগুনে পুড়ে যাওয়া দেহগুলির নাম-পরিচয় জানতে এই পরীক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে মোট ২১টি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে একটি আধপোড়া দেহ এবং বাকি ২০টি কঙ্কাল। অগ্নিকাণ্ডের পর ২৮ জনের পরিবারের তরফে নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে ছাই ও পোড়া দেহাংশ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্তের প্রস্তুতি চলছে।
এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং তদন্ত ও উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন রাখতে বুধবার মধ্যরাত থেকে নাজিরাবাদ এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এই ধারার আওতায় দুর্ঘটনাস্থলের ১০০ মিটারের মধ্যে পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রবেশেও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নরেন্দ্রপুর থানার আইসি-র আবেদনের ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রমাণ লোপাট, তদন্তে বাধা কিংবা উদ্ধারকাজে সমস্যা তৈরি হতে পারে—এই আশঙ্কাতেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এলাকায় উত্তেজনা বা শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনাও প্রশাসন উপেক্ষা করছে না।
তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত ভয়াবহ। দগ্ধ গোডাউন এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই তিনটি পোড়া কঙ্কালসহ মোট ১৬টি ঝলসে যাওয়া দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের নথি অনুযায়ী এখনও ২৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে মঙ্গলবার মধ্যরাতে গ্রেফতার করা হয়েছে গোডাউন মালিক গঙ্গাধর দাসকে। অভিযোগ, গোডাউনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না, যা আগুনের ভয়াবহতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তৎপরতা বেড়েছে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে যেতে পারেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির একাধিক বিধায়ক।
এদিকে মৃত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছিলেন। বুধবার সিঙ্গুরের এক সভা থেকে সেই ঘোষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডে মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে রাজ্যের তরফে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ওয়াও মোমো কোম্পানি ও ডেকরেটর্স সংস্থা ৫ লক্ষ টাকা করে দেবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মৃতদের পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে চাকরি দেওয়া হবে। পুলিশকে সেই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, ডিএনএ পরীক্ষার ফল সামনে এলে নিহতদের সঠিক সংখ্যা ও পরিচয় স্পষ্ট হবে, যার উপর নির্ভর করেই পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top