খেলা – ভারতীয় ক্রিকেটে তারকা-প্রভাব যে কতটা শক্তিশালী, তা ফের প্রমাণিত হয়েছে। বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে নামা শুধু মাঠে দর্শক টানেনি, বরং চাপ তৈরি করেছে বোর্ডের নীতিতেও। তারকাদের ম্যাচ টেলিকাস্ট না হওয়ায় সমর্থকদের ক্ষোভ এতটাই বেড়েছে যে সম্প্রচার নীতি বদলাতে বাধ্য হচ্ছে বিসিসিআই। আগামী দিনে টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আরও বেশি ঘরোয়া ম্যাচ দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
এতদিন বিসিসিআইয়ের স্থির নীতি ছিল—রনজি ট্রফি, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি ও বিজয় হাজারে ট্রফি মিলিয়ে বছরে প্রায় এক হাজার ঘরোয়া ম্যাচ আয়োজন হলেও তার মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক ম্যাচই টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে। দর্শকদের আগ্রহ কম থাকার যুক্তিতেই এতদিন এই নীতি নিয়ে বড় কোনও প্রশ্ন ওঠেনি।
কিন্তু চলতি মরশুমে ছবিটা বদলে যায়। বিসিসিআইয়ের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সূচিতে খেলা না থাকলে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ঘরোয়া ম্যাচ খেলতেই হবে। সেই নিয়ম মেনেই বিজয় হাজারে ট্রফিতে খেলতে নামেন রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। পরে শুভমান গিল, কেএল রাহুলের মতো তারকারাও ঘরোয়া ক্রিকেটে নামেন। আর তাতেই হঠাৎ করেই ঘরোয়া ম্যাচ ঘিরে আগ্রহ তুঙ্গে ওঠে।
সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন এই তারকাদের ম্যাচ লাইভ টেলিকাস্ট করা হয়নি। কোহলি বা রোহিত কত রান করলেন তা জানতে ভক্তদের ভরসা করতে হয়েছে গুগলের ওপর। ওই সময়েই সার্চ ট্রেন্ডে শীর্ষে উঠে আসেন এই দুই তারকা। মাঠেও তার প্রভাব স্পষ্ট—দিল্লিতে রনজি খেলতে নেমে বিরাট কোহলিকে দেখতে হাজার হাজার দর্শক ভিড় করেছিলেন, তেমনই অন্য রাজ্যেও একই ছবি দেখা গিয়েছে।
এই অভূতপূর্ব আগ্রহই নীতি বদলাতে বাধ্য করেছে বিসিসিআইকে। বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, “এর আগে ঘরোয়া ম্যাচ টেলিকাস্ট না হওয়া নিয়ে বিশেষ অভিযোগ আসেনি। কিন্তু এবার প্রচুর ফোন পাচ্ছি। জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখেই আমাদের সিদ্ধান্ত বদলাতে হচ্ছে।”
বিসিসিআই সূত্রে খবর, আগামী মরশুম থেকে মহাতারকারা যে ঘরোয়া ম্যাচে খেলবেন, সেগুলি অন্তত লাইভ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে দেখানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। টেলিভিশন সম্প্রচারও বাড়তে পারে। যদিও ঠিক কতগুলি ম্যাচ সম্প্রচার করা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বোর্ড ইতিমধ্যেই সম্প্রচারকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে এবং দ্রুত সংখ্যাটা বাড়ানো হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।




















