রাজ্য- ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে আসলে অলক্ষ্মীর অশনিসংকেত লুকিয়ে আছে বলে সতর্ক করেছে ইকোনমিক সার্ভে ২০২৬। সমীক্ষা অনুযায়ী, এই ধরনের নগদ সহায়তা বা ‘ফ্রিবি’ প্রকল্প স্বল্পমেয়াদে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রাজ্য অর্থনীতির পুঁজি খাতে বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে। এতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ সঙ্কুচিত হয়।
গত বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহারে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে অন্যান্য রাজ্যও এই ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একসময়ে এই ধরনের প্রকল্পকে ভোট কেনার অস্ত্র বলে সমালোচনা করেছিলেন, পরে তাঁর দলও নিজস্ব প্রকল্প চালু করেছে। যেমন, বিহার নির্বাচনের আগে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’-তে ১ কোটি ২০ লাখ মহিলার অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা সরাসরি পাঠানো হয়।
ইকোনমিক সার্ভে জানাচ্ছে, ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে নিঃশর্ত নগদ সহায়তা প্রকল্পে ব্যয় হতে পারে প্রায় ১.৭ লক্ষ কোটি টাকা। এই প্রকল্পগুলির বড় অংশই মহিলা উপভোক্তাদের জন্য। কিন্তু রাজ্যগুলোর রাজস্ব ব্যয়ের বড় অংশ ইতিমধ্যেই বেতন, পেনশন, সুদ, ভর্তুকি ও নগদ সহায়তার মতো ‘কমিটেড এক্সপেন্ডিচার’-এ আটকে গেছে। ফলে পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত পুঁজি বাকি থাকে না।
সমীক্ষা উল্লেখ করেছে, অনেক রাজ্যে এই ধরনের প্রকল্পে ‘সানসেট ক্লজ’, নিয়মিত পর্যালোচনা বা নির্দিষ্ট ‘এক্সিট মেকানিজম’ নেই। অর্থাৎ ভবিষ্যতে বাজেট পুনর্বিন্যাস করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আর্থিক সমীক্ষার জোর দাবি, কল্যাণমূলক ব্যয়ের বিরোধিতা নয়, বরং বাজেট অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ জরুরি। সময়বদ্ধ, শর্তসাপেক্ষ ও ফলাফলভিত্তিক সহায়তা মানবসম্পদ গঠনে বেশি কার্যকর এবং রাজকোষের উপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ কমায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলার বাস্তবতা এই সতর্কবার্তাকে নিশ্চিত করে। খয়রাতি প্রকল্প চালাতে গিয়ে পরিকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে পুঁজি বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রাজস্ব ঘাটতি সত্ত্বেও নগদ সহায়তা অব্যাহত থাকায় মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের জন্য বড় ক্ষতি সম্ভাব্য। প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতিতে এই প্রকল্প বন্ধ করার ঝুঁকি কেউ নেবে না, বরং ক্রমশ বাড়ানো হবে, যার খেসারত দিতে হবে রাজ্যকে।




















